ইরানের নাতাঞ্জে অবস্থিত পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র। ছবি: এপি
মেলবোর্ন, ৬ জুন- ইরান নিজেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করার একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে এবং দেশটি পারমাণবিক বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)-এর সাবেক বিশ্লেষক ল্যারি জনসন। তার এই মন্তব্য নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সম্প্রতি ‘জাজিং ফ্রিডম’ পডকাস্টে বিচারক অ্যান্ড্রু নেপোলিটানোর সঙ্গে আলোচনায় ল্যারি জনসন বলেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছে। তার দাবি, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ব্যক্তিগতভাবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছে একটি ‘রেড অ্যালার্ট’ বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন, যেখানে ইরানের পারমাণবিক অগ্রগতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
জনসনের এই বক্তব্যের পর গত ২৯ মে ইসহাক দার ও মার্কো রুবিওর বৈঠক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যদিও ওই বৈঠক সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা বলা হয়েছিল, তবে এর অন্তরালে আরও গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। ইসলামাবাদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কোনো গোপন প্রতিবেদন বা বিশেষ বার্তা পাঠানোর খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অনুমাননির্ভর এবং অসত্য।
অন্যদিকে ল্যারি জনসনের দাবি অনুযায়ী, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতার অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন। একই ধরনের মন্তব্য করেছেন ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক পেপে এসকোবারও। তার মতে, আন্তর্জাতিক চাপ ও চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের জন্য অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে একটি পরীক্ষামূলক পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি সত্যিই পারমাণবিক অস্ত্রের সক্ষমতা অর্জন করে থাকে বা সে ধরনের ঘোষণা দেয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে তেহরানের দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পরিচালনার কথা স্বীকার করেনি। দেশটি বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং জ্বালানি ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তবুও সাম্প্রতিক বিভিন্ন দাবি ও পাল্টা দাবির কারণে আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।