ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২১ জানুয়ারি- নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় দূতাবাস ও উপদূতাবাসগুলোর সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিবারকে দেশে ফেরার পরামর্শ দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নয়াদিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে। তবে বাংলাদেশে ভারতের কূটনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না বলে জানিয়েছে ভারত।
সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের বরাতে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেই এই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয় হাই কমিশন ও সহকারী হাই কমিশনের কর্মীদের পরিবারের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাদের আপাতত দেশে ফেরত পাঠাতে বলা হয়েছে। তবে কূটনৈতিক দপ্তরগুলো খোলা থাকবে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম আগের মতোই চলবে।
বর্তমানে ঢাকায় ভারতের একটি হাই কমিশন রয়েছে। এর পাশাপাশি চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনায় ভারতের চারটি সহকারী হাই কমিশন রয়েছে। এসব দপ্তরে কর্মরত ভারতীয় কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদেরই মূলত দেশে ফেরার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, এটি কোনো স্থায়ী সিদ্ধান্ত নয়, বরং পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ।
বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে জুলাই সনদ নিয়ে একটি গণভোটও হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক তৎপরতা ও উত্তেজনা বাড়ছে। গত ১২ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়ন জমা নেওয়া হয়। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি মনোনয়ন যাচাই করা হয়। মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাদ পড়া প্রার্থীরা ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করেন। এরপর ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল যাচাইয়ের কাজ চলে। চূড়ান্ত প্রার্থিতালিকা ও নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি। আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।
নির্বাচনকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। গত মাসে ঢাকার রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হন যুবনেতা ওসমান হাদি। ওই ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় সংখ্যালঘু হত্যার অভিযোগও সামনে আসে। বাংলাদেশ পুলিশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশে অপরাধের হার বেড়েছে। পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে অপহরণের ঘটনা বেড়েছে প্রায় ৭১ শতাংশ এবং ডাকাতির ঘটনা বেড়েছে প্রায় ৩৭ শতাংশ।
এর আগে গত বছরের শেষ দিকে ঢাকায় ভারতের কূটনৈতিক দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে তখন প্রথমে ঢাকায় ভারতের ভিসা কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় নয়াদিল্লি। পরে ডিসেম্বর মাসে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক হাদির মৃত্যুর পর রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় একটি গোষ্ঠী বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারতের উপদূতাবাস ঘেরাওয়ের ডাক দেয়।
ওই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে চট্টগ্রামে ভারতের উপদূতাবাস লক্ষ্য করে ইট ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়। একই সময়ে সিলেটেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসব ঘটনার পর চট্টগ্রামের ভিসা কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয় এবং সিলেটে ভারতের উপদূতাবাসের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ।
এই প্রেক্ষাপটেই এবার বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় হাই কমিশন ও সহকারী হাই কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবারের বিষয়ে সতর্কতামূলক সিদ্ধান্ত নিল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সূত্রঃ আনন্দবাজার