মেলবোর্ন, ২১ জানুয়ারি- কক্সবাজারের উখিয়ার ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মধ্যরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাড়ে চার শতাধিক বসতঘর পুড়ে গেছে। আগুনে ধ্বংস হয়েছে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়। শীতের রাতে সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে শত শত রোহিঙ্গা পরিবার।
মঙ্গলবার ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের শফিউল্লাহ কাটা এলাকার ১৬ নম্বর ক্যাম্পে আগুনের সূত্রপাত হয়। ক্যাম্প প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ডি-৪ ব্লকে ব্র্যাক পরিচালিত একটি শিখন কেন্দ্রে প্রথম আগুন লাগে। অল্প সময়ের মধ্যেই তা আশপাশের শেড ও বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবক ও ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের টানা প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এর আগেই ক্যাম্পের তিনটি ব্লকের বিস্তীর্ণ অংশ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।
ক্যাম্প প্রশাসনের তথ্যমতে, অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে অন্তত ৪৫০টি বসতঘর, ১০টি শিখন কেন্দ্র, দুটি মসজিদ ও একটি মাদ্রাসা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। হঠাৎ আগুনে ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গারা।
ডি-৪ ব্লকের মাঝি মোহাম্মদ আলী বলেন, গভীর রাতে সবাই ঘুমিয়ে ছিল। হঠাৎ চিৎকার শুনে কোনোরকমে প্রাণ নিয়ে বের হতে পেরেছি। আমার ব্লকের একটি ঘরও আর নেই, সব পুড়ে ছাই।
ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা আহমেদ উল্লাহ জানান, তার পরিবারের সদস্য সাতজন। তিনি বলেন, এমনিতেই শীতের কষ্ট, তার ওপর ঘর হারিয়ে আমরা এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছি। কোথায় থাকব, কীভাবে চলব, কিছুই বুঝতে পারছি না।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
৮ এপিবিএনের অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ড নতুন ঘটনা নয়। অস্থায়ী ঘরবাড়ি, ঘনবসতি ও সীমিত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে। গত বছরের ডিসেম্বরেও উখিয়া ও কুতুপালংয়ের একাধিক ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডে ঘরবাড়ি ও স্থাপনা পুড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।