আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২৩ জানুয়ারি- একসময় যা ছিল কেবল কল্পবিজ্ঞানের গল্প, ধীরে ধীরে তা বাস্তবের পথে। বিলাসবহুল ভ্রমণের নতুন গন্তব্য হিসেবে এবার আলোচনায় চাঁদ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি স্টার্টআপ চাঁদে হোটেলে থাকার জন্য রিজার্ভেশন নেওয়া শুরু করেছে- যার খরচ শুনলে চোখ কপালে ওঠার মতো।
স্টার্টআপটির নাম গ্যালাকটিক রিসোর্স ইউটিলাইজেশন স্পেস (জিআরইউ স্পেস)। সিলিকন ভ্যালিভিত্তিক এই কোম্পানি ২০৩২ সালের মধ্যে চাঁদের বুকে মানুষের জন্য একটি স্থায়ী আউটপোস্ট ও হোটেল নির্মাণের লক্ষ্য ঘোষণা করেছে। তাদের দাবি, এটি কেবল ভ্রমণ নয়- বরং পৃথিবীর বাইরে মানব সভ্যতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
কোটি টাকায় চাঁদের বুকিং
জিআরইউ স্পেসের রিজার্ভেশন তালিকায় নাম তুলতে একজন অতিথিকে দিতে হচ্ছে ২.২ কোটি টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৯ কোটি টাকা পর্যন্ত। তবে এটিই চূড়ান্ত খরচ নয়। কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো চাঁদ ভ্রমণ প্যাকেজের ব্যয় ৯০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এর বাইরে আবেদনকারীদের দিতে হবে ১ হাজার ডলার নন-রিফান্ডেবল ফি এবং পাস করতে হবে কঠোর স্বাস্থ্য, আর্থিক ও নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া। অর্থাৎ চাঁদের হোটেল কেবল ধনীদের বিলাস নয়, বরং নির্বাচিত অল্প কয়েকজনের জন্য সংরক্ষিত এক অভিজাত অভিজ্ঞতা।
‘এটা স্পেস ট্যুরিজম নয়’
জিআরইউ স্পেস স্পষ্ট করেই বলছে- এটি প্রচলিত স্পেস ট্যুরিজম নয়। কোম্পানির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত মাত্র ১২ জন মানুষ চাঁদে হাঁটার সুযোগ পেয়েছেন। এই উদ্যোগে অংশ নেয়ার মাধ্যমে অতিথিরা হবেন মানব সভ্যতার ইতিহাসের একেবারে প্রাথমিক নির্মাতাদের অংশ।
স্টার্টআপটির প্রতিষ্ঠাতা, মাত্র ২২ বছর বয়সী স্কাইলার চ্যান, এই প্রকল্পকে দেখছেন ভবিষ্যতের বিনিয়োগ হিসেবে। তার মতে, “চাঁদে ভ্রমণই হতে পারে লুনার অর্থনীতির প্রথম ধাপ। আমাদের সত্যিকার অর্থেই চাঁদের দিকে তাকাতে হবে।”
চাঁদের মাটি দিয়েই হোটেল
জিআরইউ স্পেস- এর পরিকল্পনা শুধু হোটেল বানানোতে সীমাবদ্ধ নয়। ২০২৯ সালে চাঁদে প্রথম নির্মাণ সামগ্রী পাঠানোর কথা রয়েছে তাদের। সেখানে পরীক্ষামূলকভাবে চাঁদের ধূলিকণাকে ইটে রূপান্তর করার প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হবে। এই ইট দিয়েই হোটেলের দেয়াল তৈরি করে রেডিয়েশন ও চরম তাপমাত্রা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিলাস না ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি?
অনেকের চোখে চাঁদের হোটেল নিছক বিলাসিতা। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, পৃথিবীর বাইরে মানুষের বসবাসের প্রস্তুতির এটি একটি বাস্তব পরীক্ষা। জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যার চাপ ও ভবিষ্যৎ সংকটের প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তিবিশ্বের একাংশ নতুন ঠিকানা খুঁজছে মহাকাশে।
চাঁদে হোটেল সেই স্বপ্নেরই এক বিলাসী রূপ। প্রশ্ন একটাই- এই স্বপ্ন কি কেবল ধনীদের জন্য, নাকি ভবিষ্যতে মানবজাতির জন্য খুলে যাবে নতুন দিগন্ত?
সূত্র: এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au