চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২৫ জানুয়ারি: মিনেসোটায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে আবারো এক মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে বড় ধরনের অভিবাসন আইন প্রয়োগ অভিযানের সময়, যখন ফেডারেল এজেন্টরা এক ব্যক্তিকে আটক করার চেষ্টা করছিলেন। কয়েক সপ্তাহ আগেই একই অঙ্গরাজ্যে আইসিই (ICE) এজেন্টের গুলিতে রেনি গুড নিহত হওয়ার ঘটনার পর নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে এই ঘটনা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শনিবার সকালে বাদামি জ্যাকেট ও কালো ক্যাপ পরা এক ব্যক্তিকে ঘিরে ধরেন অন্তত ছয়জন এজেন্ট। তাকে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং একাধিকবার আঘাত করা হয়। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন এজেন্টের হাতে থাকা একটি ক্যানিস্টার দিয়ে তাকে বুকে আঘাত করা হয়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই অন্তত ১০টি গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে বরফাচ্ছাদিত রাস্তায় ওই ব্যক্তিকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

ট্রাম্প প্রশাসন আনুমানিক ৩,০০০ ফেডারেল এজেন্টকে ওই এলাকায় পাঠিয়েছে, এই অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তারের জন্য ব্যাপক তৎপরতা চালানো হবে।
ছবি: ব্র্যান্ডন বেল/গেটি ইমেজেস
মিনিয়াপোলিস পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি ৩৭ বছর বয়সী একজন স্থানীয় শ্বেতাঙ্গ নাগরিক এবং বৈধ অস্ত্র মালিক ছিলেন। পরে তার পরিবার তাকে শনাক্ত করে আলেক্স জেফ্রি প্রেটি হিসেবে। তিনি ভেটেরান্স অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে কর্মরত একজন আইসিইউ নার্স ছিলেন।
নিহতের বাবা মাইকেল প্রেটি জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ছিলেন তার ছেলে এবং অন্যদের প্রতি সহমর্মিতা থেকেই প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, মিনিয়াপোলিসসহ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আইসিই কার্যক্রম নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন আলেক্স, যেমন অনেক মানুষই অসন্তুষ্ট। বাবা-মা তাকে সতর্ক থাকতে বলেছিলেন বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় গণমাধ্যম মিনেসোটা স্টার ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেটির বাসস্থান ছিল দক্ষিণ মিনিয়াপোলিসে এবং তিনি ২০২১ সালে নার্সিং লাইসেন্স অর্জন করেছিলেন। পুলিশ প্রধান ব্রায়ান ও’হারা জানান, তার বিরুদ্ধে কোনো গুরুতর অপরাধের রেকর্ড ছিল না, শুধু পার্কিং টিকিট সংক্রান্ত কয়েকটি মামলার তথ্য ছিল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS) দাবি করেছে, তাদের কর্মকর্তারা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালিয়েছেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা একটি সহিংস হামলার মামলায় অভিযুক্ত অবৈধ অভিবাসীকে আটক করার জন্য লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করছিল। DHS-এর সহকারী সচিব ট্রিশিয়া ম্যাকলাফলিন বলেন, নিহত ব্যক্তি অস্ত্র হাতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের কাছে এগিয়ে যান এবং নিরস্ত্র করার সময় সহিংস প্রতিরোধ করেন। এ কারণে একজন এজেন্ট আত্মরক্ষামূলক গুলি চালান বলে দাবি করা হয়।
DHS আরও জানায়, নিহত ব্যক্তির কাছে একটি ৯ মিমি সেমি-অটোমেটিক হ্যান্ডগান, দুটি ম্যাগাজিন এবং কোনো পরিচয়পত্র ছিল না। সংস্থাটি তার কাছে থাকা অস্ত্রের একটি ছবি প্রকাশ করেছে। তবে ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অস্ত্রটি প্রথমে তার কোমরের বেল্টে ছিল এবং পরে একজন এজেন্ট সেটি সরিয়ে নেয়। তিনি আদৌ অস্ত্র তাক করেছিলেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ফেডারেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনায় জড়িত সীমান্তরক্ষী কর্মকর্তা আট বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। উল্লেখ্য, মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে অনুমতিসাপেক্ষে প্রকাশ্যে অস্ত্র বহনের সুযোগ রয়েছে।
এ সময় এজেন্টরা যে ব্যক্তিকে আটক করতে যাচ্ছিলেন, তিনি ছিলেন ইকুয়েডরের নাগরিক হোসে হুয়ের্তা-চুমা। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, বিশৃঙ্খল আচরণ এবং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোর অভিযোগের ইতিহাস রয়েছে।
এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au