আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
সিডনি, অস্ট্রেলিয়া: বাংলাদেশ পূজা এ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)-এর উদ্যোগে মানবিক দায়বদ্ধতা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সামাজিক সচেতনতার অনন্য সমন্বয়ে সিডনিতে উদযাপিত হলো সরস্বতী পূজা ২০২৬। জ্ঞান, সুর ও শিল্পকলার দেবী সরস্বতীর আরাধনায় প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানস্থল পরিণত হয় ভক্তি, আনন্দ ও আবেগে ভরপুর এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
প্রবাসের ব্যস্ত জীবনের মাঝেও শত শত ভক্ত-অনুরাগীর উপস্থিতি প্রমাণ করেছে, সংস্কৃতি ও শিকড়ের টান মানুষের হৃদয়ে কত গভীরভাবে প্রোথিত। পূজার আনুষ্ঠানিকতা ও মঙ্গলাচরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। ধূপ-ধুনোর সুবাস ও মন্ত্রধ্বনিতে অডিটোরিয়াম জুড়ে সৃষ্টি হয় এক গভীর প্রশান্তি ও ভক্তিময় পরিবেশ। নারী-পুরুষ, তরুণ-প্রবীণ সবাই সুশৃঙ্খলভাবে অঞ্জলি প্রদান করেন, আর হলুদ ও বসন্তরঙা পোশাকে অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি উৎসবের রঙ আরও উজ্জ্বল করে তোলে।
পূজার অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিশুদের হাতে খড়ি অনুষ্ঠান। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা ও জ্ঞানচর্চার সঙ্গে যুক্ত করার এই আয়োজন আবেগঘন মুহূর্ত সৃষ্টি করে। খাতা-কলম হাতে শিশুদের প্রথম অক্ষর লেখার দৃশ্য অভিভাবকদের চোখে এনে দেয় গর্ব ও আনন্দের ঝিলিক। আয়োজকদের মতে, হাতে খড়ি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং প্রবাসে সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার ধরে রাখার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস।
এই পূজা উদযাপন শুধু ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এতে যুক্ত হয় একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও মানবিক বার্তা। অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর চলমান নির্যাতন, সহিংসতা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। বক্তারা বলেন, প্রবাসে বসবাস করলেও মাতৃভূমির মানুষের কষ্ট তাদের বিবেককে গভীরভাবে নাড়া দেয়, এবং ন্যায় ও মানবাধিকারের পক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে কথা বলা তাদের নৈতিক ও নাগরিক দায়িত্ব।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন তুষার রায় , দিলিপ দত্ত এবং বাংলাদেশ পূজা এ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)-এর সভাপতি সুকুমার ভক্ত। বক্তারা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনাগুলোর প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, পাশাপাশি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। তারা বলেন, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।

সরস্বতী পূজা থেকে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদ, বাংলাদেশ পূজা এ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)
আয়োজকরা অনুষ্ঠানের সফলতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং স্বেচ্ছাসেবক, দাতা, স্পনসর ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তারা ভবিষ্যতেও ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও মানবিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সিডনির কোগারা হাই স্কুল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই সরস্বতী পূজা তাই একদিকে যেমন ছিল ভক্তি, অঞ্জলি, প্রসাদ ও হাতে খড়ির আনন্দ, অন্যদিকে ছিল ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান। প্রবাসে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধের সম্মিলিত চর্চাই কমিউনিটিকে এগিয়ে নেওয়ার শক্তি হয়ে উঠেছে এবারের (বিপিএ)-এর সরস্বতী পূজা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au