‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ২৬ জানুয়ারি- নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি ৩০ লাখের বেশি পাঠ্যবই। পহেলা জানুয়ারির বই উৎসবের পর ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শতভাগ বই বিতরণের যে ঘোষণা জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড দিয়েছিল, ২৫ জানুয়ারি পেরিয়ে গেলেও সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে বই বিতরণ শেষ হলেও সবচেয়ে বড় ঘাটতি দেখা গেছে মাধ্যমিক স্তরে, বিশেষ করে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বই ছাপা ও বিতরণ কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বই বিতরণে ব্যর্থতার দায় কার, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও কর্তৃপক্ষের দাবি, চলতি মাসের মধ্যেই শতভাগ বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে যাবে।
এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তর মিলিয়ে মোট ৩০ কোটি ২৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬৫৩ কপি পাঠ্যবই ছাপার পরিকল্পনা করা হয়। এই কাজের জন্য ১০৫টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান যুক্ত ছিল। এর মধ্যে ২৯ কোটি ৯১ লাখ ১৮ হাজার ৩৫৪ কপি বই মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে, যা শতকরা হিসাবে প্রায় ৯৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ। উপজেলা পর্যায়ে ২৪ জানুয়ারি রাত ৮টা পর্যন্ত পৌঁছেছে ২৯ কোটি ৭১ লাখ ৮০ হাজার ৮৫৯ কপি বই। ফলে এখনো বিতরণ বাকি রয়েছে ৩০ লাখ ৫৮ হাজার ৭৯৪ কপি পাঠ্যবই। মোট সংখ্যার হিসেবে এটি মাত্র ১ দশমিক ২ শতাংশ হলেও বাস্তবে এর অর্থ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী এখনো বই ছাড়াই ক্লাস করছে।
স্বস্তির দিক হলো, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে বই বিতরণ সম্পূর্ণ হয়েছে। এনসিটিবির হিসাবে, প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ৬৭টি প্রেসের মাধ্যমে ৮ কোটি ৫৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৭৯ কপি বই নির্ধারণ করা হয়েছিল। এই স্তরে মুদ্রণ, মান যাচাই এবং সরবরাহ সব ধাপেই শতভাগ কাজ শেষ হয়েছে। একইভাবে প্রাথমিক সাধারণ স্তরে ৩১ কোটি ১০ লাখ ৯ হাজার ৩৪৭ কপি বইয়ের মুদ্রণ ও বিতরণও সম্পন্ন হয়েছে। এই দুই স্তরে কোনো বই ঘাটতি নেই।
কিন্তু সংকট পুরোপুরি কেন্দ্রীভূত হয়েছে মাধ্যমিক স্তরে। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত এই স্তরে মোট বই নির্ধারিত ছিল ১৮ কোটি ৩২ লাখ ৪ হাজার ৯২৭ কপি। এর মধ্যে মুদ্রণ হয়েছে ১৮ কোটি ২৯ লাখ ৮৩ হাজার ৮৫৮ কপি, যা প্রায় ৯৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ। তবে বিতরণ পর্যায়ে গিয়ে হার নেমে এসেছে ৯৮ দশমিক ৩৩ শতাংশে। ফলে মাধ্যমিক স্তরেই আটকে আছে পুরো ৩০ লাখ ৫৮ হাজার ৭৯৪ কপি বই, যা এই স্তরের মোট বইয়ের প্রায় ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। নবম শ্রেণিতে ৫ কোটি ৭ লাখ ৬৮ হাজার ৯২৪ কপি বই মুদ্রণ শতভাগ হলেও বিতরণ হয়েছে ৯৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এতে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৪৪৯ কপি বই এখনো শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যবই ছাপার কাজ রিটেন্ডার প্রক্রিয়ায় পড়ায় আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। দরপত্র বাতিল ও পুনরায় আহ্বানের কারণে প্রেস নির্বাচন, কাগজ সংগ্রহ, মুদ্রণ সূচি নির্ধারণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় বিলম্ব ঘটে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে মাঠপর্যায়ে বই বিতরণে।
এ ছাড়া রিটেন্ডার ঘিরে অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগও রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, নির্দিষ্ট কয়েকটি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো হয়েছিল। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত পারচেজ কমিটি ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবই ছাপার প্রায় ৬০৩ কোটি টাকার দরপত্র বাতিল করে দেয়। পরে নতুন করে কার্যাদেশ দিতে দেরি হওয়ায় অনেক প্রেস নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ শুরু করতে পারেনি। এতে মুদ্রণ সময়সূচি সংকুচিত হয়ে পড়ে এবং পরিবহন ও উপজেলা পর্যায়ের সরবরাহ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।
এনসিটিবির বিতরণ নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মতিউর রহমান খান পাঠান জানান, ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শতভাগ বই বিতরণের পরিকল্পনা থাকলেও কিছু বাস্তব সীমাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, মুদ্রণ প্রক্রিয়ায় শর্ট বই নামে একটি স্বাভাবিক সমস্যা থাকে। কাগজ কাটার সময়, ছাপার ত্রুটি কিংবা কাগজ নষ্ট হওয়ার কারণে কোনো কোনো বইয়ে ১০ থেকে ২৫ হাজার কপি পর্যন্ত ঘাটতি তৈরি হয়। আবার কোথাও কয়েক হাজার কপি কম পড়ে। এই সম্মিলিত ঘাটতির কারণেই সামান্য একটি অংশ বই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিতরণ করা যায়নি।
তিনি আরও বলেন, ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত বই বিতরণের পূর্ণাঙ্গ তথ্য এনসিটিবির কাছে রয়েছে। সেই হিসাবে অধিকাংশ বই ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে পৌঁছে গেছে। বর্তমানে যে প্রায় এক শতাংশ বই বাকি আছে, সংখ্যায় তা কম মনে হলেও মোট পরিমাণ বেশি হওয়ায় সেটি কয়েক লাখ কপিতে দাঁড়ায়। আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে শতভাগ বই বিতরণ সম্পন্ন করার আশা করা হচ্ছে।
এদিকে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বলেছেন, সময়মতো বই পৌঁছাতে হলে টেন্ডার ও ছাপা সংক্রান্ত কাজ আরও আগেভাগে শুরু করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও পহেলা জানুয়ারিতে বই দেওয়ার লক্ষ্যেই কাজ শুরু হয়েছিল এবং ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শতভাগ বিতরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। তবে বাস্তবতায় সব ক্ষেত্রে সেই সময়সীমা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।
তিনি দাবি করেন, এবার আগের বছরের তুলনায় প্রস্তুতি আগে শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো ছিল। ভবিষ্যতে পহেলা জানুয়ারির বই উৎসবের মধ্যেই সব বই পৌঁছে দিতে হলে আরও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, আগাম প্রস্তুতি এবং সময়ভিত্তিক কাজের ধাপ স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করার ওপর জোর দেন তিনি। সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বয় থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেন এনসিটিবির এই শীর্ষ কর্মকর্তা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au