‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ২৬ জানুয়ারি- সদ্য স্ত্রী ও নয় মাস বয়সী সন্তান হারানো বাগেরহাট সদর উপজেলার ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামকে মানবিক কারণে ছয় মাসের জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এই আদেশ দেন। আদালতে সাদ্দামের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা, যিনি জানান, আদালত মানবিক দিক বিবেচনা করে জামিন দিয়েছেন।
সাদ্দাম বর্তমানে একাধিক মামলায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। গত ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় কারাগারের গেটে তিনি মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য মৃত স্ত্রী কানিজ সুরভানা স্বর্ণালী এবং নয় মাস বয়সী শিশুপুত্র নাজিমকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান। প্যারোল না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে কারাগারের গেটে আনা হয়েছিল।
কারা কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স সন্ধ্যা ৭টার দিকে কারাগারের সামনে পৌঁছায়। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সসহ পরিবারের ছয়জন নিকটাত্মীয়কে জেলগেটে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। সেখানে মাত্র পাঁচ মিনিট অবস্থানের পর তাদের বাইরে বের করে দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুটি মাইক্রোবাসে করে ১২ থেকে ১৫ জন স্বজন কারাগারের সামনে এসেছিলেন। বাইরে অপেক্ষমান স্বজনদের কান্না ও শোকের দৃশ্য দেখে উপস্থিত সবাই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত এবং হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সাক্ষী হন। এ সময় অনেক সংবাদকর্মীরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
সাদ্দামের স্ত্রী ও শিশুপুত্রের মৃত্যু শুধু তার ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, এটি সামাজিক সহমর্মিতা ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এক গভীর দুশ্চিন্তার বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। পুলিশ ও পরিবারের ধারণা, দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকার মানসিক চাপ ও বিষণ্নতায় স্বর্ণালী হয়তো সন্তানকে হত্যা করে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন।
প্যারোলে সাদ্দামকে মুক্তি না দেওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলেছেন, মানসিক ট্র্যাজেডির মুহূর্তে প্রশাসনের কঠোর নীতি কতটা মানবিক ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কারাগারে বন্দি অবস্থায় প্রিয়জনের মৃত্যু এবং শেষ বিদায় দেখার সুযোগ না পাওয়া এক ধরনের মানবিক ও মানসিক সঙ্কটের সৃষ্টি করে, যা প্রশাসনিক নীতিমালায় যথাযথ বিবেচনার দাবি রাখে।
এই ঘটনায় মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে জাতীয় পর্যায়ে গভীর সমালোচনা শুরু হয়েছে। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সীমিত সময়ের প্যারোল ব্যবস্থা ও তাতে প্রাপ্ত পাঁচ মিনিটের সাক্ষাৎও যথেষ্ট হয়নি সাদ্দামের জন্য, যিনি নিজের স্ত্রী ও সন্তানের প্রতি শেষ বিদায় জানাতে চেয়েছিলেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au