‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ২৭ জানুয়ারি- জামায়াতের সঙ্গে মিশে যাওয়া ছাড়া এনসিপির সামনে আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে সদ্য পদত্যাগ করা বান্দরবান জেলা নেতা মোহাম্মদ এরফানুল হক। তাঁর ভাষায়, ৫ আগস্টের আন্দোলনের যে চেতনা নিয়ে দলটি যাত্রা শুরু করেছিল, সেখান থেকে সরে এসে এনসিপি এখন সাংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে গভীর সংকটে পড়েছে।
সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটায় বান্দরবান প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বান্দরবান আসনে ভিন্ন জেলা থেকে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতে তিনি এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। এ সময় তাঁর কয়েকজন কর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
এরফানুল হক জানান, তিনি এনসিপির বান্দরবান জেলা সদস্যসচিব ছিলেন এবং গত রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে দল থেকে পদত্যাগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, বান্দরবান আসনে বহিরাগত প্রার্থী দিয়ে এনসিপি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক মূল্য দলটিকে নির্বাচনে দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, বান্দরবানে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে এনসিপি প্রহসন করছে। অতীতে কোনো নির্বাচনে এই আসনে বহিরাগত প্রার্থী দেওয়া হয়নি। এবার সেই নজির সৃষ্টি করে দলটি বান্দরবানের মানুষের আত্মসম্মানে আঘাত করেছে। তাঁর মতে, একজন জনপ্রতিনিধির জন্ম ও বেড়ে ওঠা সংশ্লিষ্ট এলাকাতেই হওয়া উচিত। অন্য জেলা থেকে আসা কেউ স্থানীয় মানুষের সুখ-দুঃখ, সমস্যা ও বাস্তবতা সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন না। এই অসম্মানের জবাব বান্দরবানের মানুষ ভোটের মাধ্যমেই দেবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
এরফানুল হক এ সময় ভোটারদের উদ্দেশে বিএনপির প্রার্থী সাচিংপ্রু জেরীর পক্ষে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এনসিপির বর্তমান নেতৃত্ব ২০২৪ সালের আগস্টের আন্দোলনের চেতনা থেকে সরে গেছে। তাঁর ভাষায়, দলটি এখন আর তৃণমূলের নয়, বরং বাংলামোটরকেন্দ্রিক কয়েকজন ব্যক্তির হাতে সীমাবদ্ধ একটি দলে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এনসিপি এখন জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে মিশে গিয়ে রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। তাঁর মতে, এই পথেও শেষ পর্যন্ত দলটির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হবে না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছাড়া এনসিপির সামনে অন্য কোনো বাস্তব বিকল্পও নেই বলেই তিনি মনে করেন। এসব কারণেই তিনি এনসিপির সব দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তিনি এখনো বিএনপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেননি বলে স্পষ্ট করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বান্দরবান আসনে এনসিপি ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দলের জেলা আহ্বায়ক মংসাপ্রু চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের যে কোনো নাগরিক দেশের যে কোনো আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। আইনগতভাবে এতে কোনো বাধা নেই। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁরা মনোনীত প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করছেন বলে জানান তিনি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au