কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা : ১০০০ ভারতীয় তীর্থযাত্রীর সুবিধা দেবে চীন
মেলবোর্ন, ১ মে- দীর্ঘ বিরতির পর ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছে চীন। ২০২৬ সালে এই তীর্থযাত্রায় অংশ নিতে যাওয়া প্রায়…
মেলবোর্ন, ২৮ জানুয়ারি- জুলাই ২০২৪ সালে ঘটে যাওয়া গণ অভ্যুত্থানের সময় পুলিশ ফাঁড়ি ও এসএসএফের (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স) ভাণ্ডার থেকে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলির মধ্যে দেড় বছরেও হাজারের বেশি অস্ত্র এবং দুই লাখের বেশি গুলি এখনও উদ্ধার হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রায় একশো দফায় অভিযান চালিয়েও আসল সংখ্যা উদ্ধার করতে পারেনি।
লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে চায়নিজ রাইফেল, সাব-মেশিনগান (এসএমজি), লাইট মেশিনগান (এলএমজি), পিস্তল, শটগান, গ্যাসগানসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ছিল। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী হামলাকারীরা সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি আগ্নেয়াস্ত্র এবং সাড়ে ছয় লাখের মতো গুলি লুট করে নিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, প্রকৃত সংখ্যা তিন হাজার ৬১৯টি অস্ত্র এবং চার লাখ ৫৬ হাজার ৪১৮ রাউন্ড গুলি।
সেনা-পুলিশের যৌথবাহিনী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে। এ পর্যন্ত ২ হাজার ২৫৯টি অস্ত্র এবং প্রায় দুই লাখ ৩৭ হাজার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা গেছে। অর্থাৎ লুট হওয়া অস্ত্রের মাত্র ৬২ দশমিক চার শতাংশ এবং গুলির ৫২ শতাংশ উদ্ধার হয়েছে। লুটের অস্ত্র উদ্ধারে গত জানুয়ারি পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এখনো উদ্ধার না হওয়া অস্ত্র এবং গুলির অবৈধ ব্যবহার আসন্ন নির্বাচনের জন্য বড় ঝুঁকি। এসব অস্ত্র ছিনতাই, ডাকাতি এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে খুলনা থেকে দুই ব্যক্তির কাছ থেকে পুলিশী পিস্তল ও শটগান উদ্ধার করা হয়। একইভাবে চট্টগ্রাম ও মুন্সিগঞ্জেও লুটের অস্ত্র উদ্ধার হলেও সেগুলো অপরাধ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, কিছু অস্ত্র উগ্রগোষ্ঠীর হাতে পৌঁছাতে পারে। এতে নির্বাচনের পরিবেশ প্রভাবিত হতে পারে। অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ন ম মুনীরুজ্জামান বলেন, “যে অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি, সেগুলো নির্বাচনের সময় অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা আছে।” সাবেক আইজিপি নুরুল হুদা আরও বলেন, “নির্বাচনের সময় অস্ত্র সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক হয়ে যেতে পারে।”
এবারের নির্বাচনের আগে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। পুলিশের দুর্বল অবস্থার কারণে সাধারণ মানুষ এখনও তাদের ওপর ভরসা রাখতে পারছেন না। নির্বাচনের সময় প্রার্থীদের ওপর হামলা ও গুলি ছোড়ার ঘটনা ইতিমধ্যেই ঘটেছে। উদাহরণ হিসেবে, ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনা, পুলিশ, বিজিবিসহ প্রায় নয় লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, লুট হওয়া অস্ত্র নির্বাচন চলাকালীন ব্যবহার করা হবে না। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অস্ত্র যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে লুট হওয়া অস্ত্র ও গুলির বড় অংশ এখনও হাতে রয়েছে এবং সেগুলো যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভোটারদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সতর্ক হতে হবে এবং অবিলম্বে লুট হওয়া অস্ত্রের সন্ধান নিশ্চিত করতে হবে।
সূত্রঃ বিবিসি বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au