‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ২৯ জানুয়ারি- চীন ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন কাটিয়ে সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্টারমার বলেন, যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে বেইজিংয়ের সঙ্গে একটি “পরিণত ও বাস্তবধর্মী” সম্পর্ক গড়ে তুলতে চান তিনি।
চীন সফরের চার দিনের কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ দিনে, গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রায় ৮০ মিনিট ধরে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন স্টারমার। আট বছরের মধ্যে এটি কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর প্রথম চীন সফর। বৈঠকের পর দুজন একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজেও অংশ নেন। স্টারমার জানান, আলোচনায় ফুটবল ও শেক্সপিয়ারের মতো বিষয় যেমন ছিল, তেমনি ছিল ব্যবসা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রসঙ্গও। সফরের অংশ হিসেবে তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।
বৈঠকের শুরুতে স্টারমার বলেন, বিশ্ব রাজনীতিতে চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। তাই সহযোগিতার সুযোগ খুঁজে নেওয়ার পাশাপাশি মতবিরোধের বিষয়গুলো নিয়েও অর্থবহ আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার মতো সম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরি। জবাবে শি জিনপিং বলেন, চীন ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে, যা কোনো দেশেরই স্বার্থে ছিল না। তিনি দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চীনের প্রস্তুতির কথা জানান এবং বলেন, ইতিহাসের পরীক্ষায় টিকে থাকবে এমন সম্পর্ক গড়া সম্ভব।
কেন্দ্র-বাম লেবার পার্টির নেতৃত্বাধীন স্টারমার সরকার নির্বাচনের আগে যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নে চাপে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন স্টারমার, যদিও গুপ্তচরবৃত্তি ও মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ এখনো রয়ে গেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনিশ্চিত নীতির কারণে পশ্চিমা দেশগুলো চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকি এবং ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বক্তব্য যুক্তরাজ্যের মতো মিত্র দেশগুলোকেও অস্বস্তিতে ফেলেছে। এই সফরের ঠিক আগেই কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি চীন সফর করে বাণিজ্য বাধা কমাতে একটি অর্থনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যা ট্রাম্পের অসন্তোষের কারণ হয়।
স্টারমার সাংবাদিকদের জানান, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনায় ব্রিটিশ হুইস্কির ওপর শুল্ক কমানোর বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। পাশাপাশি চীন ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য ভিসা ছাড় দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে বলে জানান শি। স্টারমারের সফরে তার সঙ্গে ৫০ জনের বেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি রয়েছেন। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক এখন ভালো জায়গায় রয়েছে এবং শির সঙ্গে ব্যবসা করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
এর আগে রক্ষণশীল সরকারের সময়ে জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে যুক্তরাজ্য কিছু চীনা বিনিয়োগে বাধা দিয়েছিল এবং হংকংয়ে রাজনৈতিক স্বাধীনতা সংকোচনের সমালোচনা করেছিল লন্ডন। নতুন নীতির অংশ হিসেবে স্টারমার চীনের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর কথা জানিয়ে বলেন, সরকার গঠনের ১৮ মাস আগে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যকে আবারও বৈশ্বিক পরিসরে সক্রিয় করবেন, কারণ বিদেশের ঘটনাবলি দেশের বাজারদর থেকে শুরু করে নাগরিকদের নিরাপত্তা অনুভূতির ওপর প্রভাব ফেলে।
যুক্তরাজ্যের বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক বলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তিনি হলে চীন সফরে যেতেন না। ব্রিটিশ নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, চীন নিয়মিত গুপ্তচরবৃত্তি চালায়, যদিও বেইজিং এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সহযোগিতার একটি উদাহরণ হিসেবে স্টারমার জানান, অবৈধ অভিবাসী পাচারকারী চক্র দমনে যুক্তরাজ্য ও চীন একসঙ্গে কাজ করবে। ইউরোপে আশ্রয়প্রার্থীদের বহনে ব্যবহৃত ছোট নৌকায় চীনে তৈরি ইঞ্জিনের ব্যবহার কমানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এ জন্য দুই দেশের কর্মকর্তারা গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবেন এবং চীনা নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করে বৈধ ব্যবসাকে অপরাধচক্রের অপব্যবহার থেকে রক্ষা করবেন।
স্টারমার আরও জানান, তিনি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে হংকংয়ের সাবেক গণমাধ্যম উদ্যোক্তা ও ব্রিটিশ নাগরিক জিমি লাইয়ের মামলার বিষয়েও সম্মানজনক আলোচনা করেছেন। ডিসেম্বর মাসে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে দোষী সাব্যস্ত হন জিমি লাই।
চীনে পৌঁছানোর পর বুধবার রাতে স্টারমার একটি রেস্তোরাঁয় নৈশভোজ করেন, যেখানে আগে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেনও গিয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইবোতে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, রেস্তোরাঁর কর্মীদের সঙ্গে ছবি তোলার সময় স্টারমার চীনা ভাষায় ধন্যবাদ জানাতে ‘শিয়ে শিয়ে’ শব্দের উচ্চারণ অনুশীলন করছেন।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au