মহামন্দার কবলে পড়তে যাচ্ছে বিশ্ব, আইএমএফের সতর্কতা
মেলবোর্ন, ১৫ এপ্রিল- ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল…
মেলবোর্ন, ৩০ জানুয়ারি- নির্বাচনের পর বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎ খাতে ক্রমবর্ধমান আর্থিক ঘাটতি কমাতে মূল্য সমন্বয় ছাড়া বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) গণশুনানিতে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষে বক্তব্য দেন উপসচিব মোহাম্মদ সোলায়মান। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতে বিপুল ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে গিয়ে বরাদ্দ চাইতে হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেন ভিক্ষা করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় নির্বাচনের পরপরই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে বিইআরসিতে আসতে হবে বলে জানান তিনি।
তবে পাইকারি পর্যায়ে নাকি গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি বিদ্যুৎ বিভাগের এই কর্মকর্তা।
গণশুনানিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি হিসেবে ফার্নেস অয়েলের ওপর নির্ভরতার কারণেই খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি আমদানি করলে খরচ অনেক কম পড়ে, কিন্তু বিপিসির কাছ থেকে কিনতে গেলে ব্যয় অনেক বেশি হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দাম সমন্বয় করে জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিপিসির প্রতি ইঙ্গিত করে বিপিডিবি চেয়ারম্যান বলেন, কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অলাভজনক হোক তারা তা চান না। তবে নিজের মুনাফা নিশ্চিত করতে গিয়ে আরেকটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিগ্রস্ত করা ঠিক নয়।
বিপিডিবির পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা গণশুনানিতে জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড় খরচ পড়ছে ১১ টাকা ৮৩ পয়সা, অথচ পাইকারি পর্যায়ে বিক্রি করা হচ্ছে ৬ টাকা ৯৯ পয়সায়। ওই অর্থবছরে এক লাখ এক হাজার ১৮৭ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে। প্রতি ইউনিটে প্রায় ৫ টাকা ৯৯ পয়সা ঘাটতির কারণে বিপিডিবিকে ব্যাপক লোকসান গুনতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩৮ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার পরও বিপিডিবির লোকসান দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ২১ কোটি টাকা।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে গ্যাসভিত্তিক ৫০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার ১৯৪ মেগাওয়াট, যা মোট উৎপাদন সক্ষমতার ৪৩ শতাংশ। ফার্নেস অয়েলভিত্তিক ৫৪টি কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ৫ হাজার ৬৩৪ মেগাওয়াট বা ১৯ শতাংশ। ডিজেলভিত্তিক কেন্দ্রের সক্ষমতা ৩ শতাংশ, কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের ২২ শতাংশ, জলবিদ্যুৎ ১ শতাংশ এবং সৌর ও বায়ু বিদ্যুতের অংশ ৩ শতাংশ। এছাড়া মোট বিদ্যুতের ৯ শতাংশ আমদানি করা হচ্ছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে গ্যাস দিয়ে ৪৪ দশমিক ০৯ শতাংশ, কয়লায় ২৬ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং ফার্নেস অয়েলে ১০ দশমিক ৭৩ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতে প্রতি ইউনিট খরচ পড়েছে ৭ টাকা ৯ পয়সা, কয়লায় ১৩ টাকা ২০ পয়সা, ফার্নেস অয়েলে ২৭ টাকা ৩৯ পয়সা। আদানির কাছ থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ১৪ টাকা ৮৬ পয়সা, ভারত সরকারের কাছ থেকে কেনা বিদ্যুতের দাম ৮ টাকা ৭১ পয়সা এবং সৌর বিদ্যুতের দাম ১৫ টাকা ৪৬ পয়সা।
ফার্নেস অয়েলের দাম নিয়ে গণশুনানিতে বিপিডিবির কর্মকর্তারা বলেন, বিপিসির কাছ থেকে তেল কিনে তারা বিপুল লোকসানে পড়ছেন, অথচ বিপিসি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে তেল বিক্রি করে ৪ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা লাভ করেছে। তারা জানান, বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ফার্নেস অয়েল আমদানি করেছে প্রতি লিটার ৫৭ টাকায়, সেখানে বিপিসির কাছ থেকে কিনতে হয়েছে ৮৬ টাকা দরে। ফার্নেস অয়েল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে শুধু জ্বালানি খরচই দাঁড়াচ্ছে ১৮ টাকা ৪১ পয়সা প্রতি ইউনিটে।
বিপিডিবির কর্মকর্তারা বলেন, ভোক্তাদের কথা বিবেচনা করে এখনই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো যাচ্ছে না। তবে প্রতিষ্ঠানটি চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে এবং আসন্ন গরমের মৌসুম নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। ফার্নেস অয়েলের দাম কমানো না গেলে বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকট দেখা দিতে পারে বলেও সতর্ক করেন তারা।
এদিকে বিপিসির জিএম এটিএম সেলিম উদ্দিন দাবি করেন, বিপিডিবির দেওয়া আন্তর্জাতিক বাজারদরের তথ্যের সঙ্গে ডিউটি ও অন্যান্য ব্যয় যোগ করা হয়নি। তিনি বিইআরসিতে প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের দাম ৮১ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেন।
সবশেষ ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন পাইকারি পর্যায়ে গড় দাম ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয় এবং গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ দাম বৃদ্ধি করা হয়। এর আগে জানুয়ারি ও নভেম্বরেও একাধিক দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়।
বর্তমানে বিপিডিবি পাইকারি পর্যায়ের লোকসান সামাল দিতে দামের সমন্বয়ের কথা বললেও অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, তিনি কোনোভাবেই বিদ্যুতের দাম বাড়াতে চান না। ফলে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো নিয়ে সরকারের ভেতরে ভিন্নমত স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au