‘আইএসের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক নেই’, আদালতে রায়ান এল হৌলির দাবি । ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২ জুন- অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে সন্ত্রাসবাদ-সম্পর্কিত গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত ৩৪ বছর বয়সী নারী রায়ান এল হৌলি জামিন আবেদনের শুনানিতে আদালতে হাজির হন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সিরিয়ায় গিয়ে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০১৩ বা ২০১৪ সালের দিকে রায়ান এল হৌলি সিরিয়ায় যান এবং সেখানে আইএস সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত হন। পরে দীর্ঘ সময় পর তিনি আবার অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসেন। তার বিরুদ্ধে “নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ” এবং “সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য হওয়া”-র অভিযোগ আনা হয়েছে, যেগুলোর সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
আদালতে তার আইনজীবী পিটার মরিসি এসসি দাবি করেন, তার মক্কেল একজন “গভীরভাবে ট্রমাটাইজড ব্যক্তি” এবং তিনি ইসলামিক স্টেট বা সহিংস মতাদর্শের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চান না। আইনজীবীর ভাষায়, রায়ান এল হৌলি স্পষ্টভাবে সংগঠনটি এবং সহিংস জিহাদ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করেছেন এবং ভবিষ্যতেও কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা চান না।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি সিরিয়ায় অবস্থানকালে একাধিক আইএস সদস্যকে বিয়ে করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি উগ্র মতাদর্শ প্রচার করেছেন, শিশুদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন এবং অন্যদের সিরিয়ায় যেতে উৎসাহিত করেছিলেন বলেও অভিযোগ আনা হয়েছে।
ম্যাজিস্ট্রেট লিসা হ্যানান আদালতে বলেন, মামলাটি অত্যন্ত গুরুতর এবং জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জননিরাপত্তা বড় বিবেচ্য বিষয় হবে। তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিশ্বাস, উদ্দেশ্য এবং সিরিয়ার আল-হল শরণার্থী শিবিরে অবস্থানকালীন ঘটনাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত শুনতে চান আদালত।
শুনানিতে আরও উঠে আসে, রায়ান এল হৌলি সিরিয়ায় আটক থাকার পর একপর্যায়ে আল-হল শিবির থেকে পালিয়ে স্মাগলারদের মাধ্যমে লেবাননে পৌঁছান। পরে তার মা সেখানে গিয়ে তাকে এবং শিশুদের গ্রহণ করেন। এরপর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয় এবং পরে তারা অস্ট্রেলিয়ার পাসপোর্ট পান।
আইনজীবী পিটার মরিসি আরও জানান, তার মক্কেলের মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, যা তার পুনর্বাসন ও প্রোগ্রামে অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করছে।
অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ জানিয়েছে, সিরিয়া থেকে সাম্প্রতিক সময়ে ফিরে আসা কয়েকজন নারীর বিষয়ে নতুন তথ্য পাওয়ার পর তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে। আদালত জানায়, মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য এখনও তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি এবং রায়ান এল হৌলি বর্তমানে হেফাজতে রয়েছেন।