কোন পথে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা?
মেলবোর্ন, ২৯ এপ্রিল- বাংলাদেশে বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা যাবে কীভাবে—এই প্রশ্ন নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্তে সেই পুরোনো বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে।…
মেলবোর্ন, ৪ ফেব্রুয়ারি- দীর্ঘ প্রায় এক দশকের অপেক্ষা, দাবি, স্মারকলিপি ও আন্দোলনের পর অবশেষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় মন্দির স্থাপন করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় সকল প্রতিবন্ধকতা ও চাপ উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরাই নিজ উদ্যোগে মন্দিরটির উদ্বোধন ও ভূমিপূজা সম্পন্ন করেন।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে এই কেন্দ্রীয় মন্দিরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের সময় ধর্মীয় বিধি অনুযায়ী ভূমিপূজাও অনুষ্ঠিত হয়। মন্দির স্থাপনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি পূরণ হওয়ায় সনাতনী শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা জানান, ২০১৬ সাল থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কেন্দ্রীয় মন্দির স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন তারা। প্রায় ১০ বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান, আলোচনা ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করা হলেও বাস্তব কোনো অগ্রগতি হয়নি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই শিক্ষার্থীরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে মন্দির স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন।

মন্দিরের যায়গায় শৌচাগার নির্মানের পরিকল্পনার প্রতিবাদ। ছবিঃ সংগৃহীত
এর আগে একই দিন দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় মন্দির স্থাপনের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চের সামনে এই কর্মসূচি শুরু হয়। অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগানে তাদের দাবি তুলে ধরেন। এ সময় ‘এক, দুই, তিন, চার; মন্দির আমার অধিকার’, ‘প্রশাসন লজ্জা লজ্জা’ এবং ‘মন্দির আমার অধিকার, রুখে দেবে সাধ্য কার’ এমন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৭০০ সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত থাকলেও তাদের জন্য কোনো কেন্দ্রীয় উপাসনালয় নেই। অন্যান্য ধর্মের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ধর্মীয় সুবিধা থাকলেও সনাতনী শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত।
শ্রীচৈতন্য শিক্ষা ও সংস্কৃতি সংঘের সাধারণ সম্পাদক অজয় পাল বলেন, “আমরা বহুবার প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। উপাচার্য আমাদের জানিয়েছিলেন জায়গার সংকট রয়েছে। এরপর আমরা নিজেরাই মুক্তমঞ্চের পাশে একটি জায়গা চিহ্নিত করে দিয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই জায়গায় এখন পাবলিক টয়লেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি আমাদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি চরম অবহেলার শামিল।”
ছাত্রঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রিয়ন্ত স্বর্ণকার বলেন, “আমাদের কোনো ধরনের অবহিত না করেই মন্দিরের জন্য নির্ধারিত জায়গায় টয়লেট নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত।”
এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের সভাপতি সুমন কুমার দাস বলেন, “আমরা আগেই ঘোষণা দিয়েছিলাম যে আজই নির্ধারিত স্থানে ভিত্তিপূজা সম্পন্ন করবো। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণে বাধ্য হয়ে আমরা নিজেরাই কেন্দ্রীয় মন্দির স্থাপনের কাজ শুরু করেছি।”
শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করে বলেন, এই মন্দির শুধু উপাসনার স্থান নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চর্চার একটি কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি তারা প্রশাসনের কাছে এই স্থাপনাকে স্বীকৃতি দেওয়ার এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au