চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ৪ ফেব্রুয়ারি- জামালপুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে এক হিন্দু শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক ঘটনার মধ্য দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। কথিত ‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগের পরপরই ওই শিক্ষার্থীকে হল থেকে বহিস্কার এবং একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
জামালপুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী অসীম কুমার ধর-এর বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্মের মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ তোলা হয়। অভিযোগ ওঠার পরপরই শিক্ষার্থীদের একটি অংশের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে।
কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার অসীম কুমার ধরকে ছাত্রাবাস থেকে বহিস্কার এবং কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে একটি লিখিত বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই বা শিক্ষার্থীর বক্তব্য শোনার বিষয়ে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
ফেইসবুকে কি লিখেছিলেন অসীম
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে। ফেসবুকভিত্তিক ‘বাংলাদেশ রিউমার স্ক্যানার’ নামের একটি গ্রুপে ‘এপস্টেইন ফাইল’ সংক্রান্ত একটি পোস্টে নারী নির্যাতন বিষয়ে আলোচনার সময় অসীম কুমার ধর একটি মন্তব্যের জবাব দেন। ওই পোস্টে এস জোভা নামের এক ব্যক্তি মহানবী (সা.)-কে উদ্ধৃত করে একটি মন্তব্য করেন। এর জবাবে অসীম লেখেন, ‘এসব বিষয় তার সময় থেকেই শুরু হয়েছিল।’
ফেইসবুকে যা বলেছিলেন অসীম। ছবিঃ সংগৃহীত
অভিযোগকারীদের দাবি, এই মন্তব্যের মাধ্যমে মহানবী (সা.)-কে অবমাননা করা হয়েছে এবং মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা হয়েছে। তারা বলেন, এটি পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা। ঘটনার পর রাত আনুমানিক ২টা ২৭ মিনিটে অসীম কুমার ধর ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন বলে গেটম্যানের বরাতে জানা গেছে।
অভিযোগকারীরা বলেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এটি গুরুতর অপরাধ এবং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিলসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত। তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনার দাবিতে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণাও দিয়েছেন।
এ ঘটনার পর সংখ্যালঘু হিন্দু শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের অনেকে মনে করছেন, অভিযোগের পরপরই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা বা ন্যায্য প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। একজন শিক্ষার্থী জানান, এমন পরিস্থিতিতে মতপ্রকাশ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মন্তব্য করাও সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
মানবাধিকারকর্মীদের মতে, ধর্মীয় অনুভূতির প্রশ্নে আইনগত প্রক্রিয়া থাকা জরুরি হলেও, অভিযোগ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে হিন্দু শিক্ষার্থীকে একঘরে করে দেওয়া বা নিরাপত্তাহীন অবস্থায় ফেলে রাখা উদ্বেগজনক। তারা বলছেন, এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয় এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়।
এ বিষয়ে কলেজ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত কীভাবে হবে, শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে কি না এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া কী হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au