হাদি হত্যার তদন্ত জাতিসংঘের অধীনে চায় সরকার, ৮ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে
মেলবোর্ন,৭ ফেব্রুয়ারি- শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত জাতিসংঘের অধীনে পরিচালনার লক্ষ্যে আগামী রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি সংস্থাটির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠাবে অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেনি বলে জানিয়েছে সরকার।
শুক্রবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বরাত দিয়ে বলা হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হলেও কোনো গুলি ছোড়া হয়নি।
শহীদ হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বুধবার বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। যমুনা ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও প্রথম দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ করেনি বলে সরকারের ভাষ্য।
তবে শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং এক পর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এ সময় কোনো ধরনের প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি বলে সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন, আহতদের কারও শরীরে গুলির আঘাত নেই।
সরকার পুনর্ব্যক্ত করেছে, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে তারা বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে আগামী রোববার সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে চিঠি পাঠানো হবে।
বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বল প্রয়োগের যে অভিযোগ বিভিন্ন মাধ্যমে ওঠেছে, তা সঠিক নয় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমান সংবেদনশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সবাইকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন বাংলাদেশের দিকে। ইতোমধ্যে বহু বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক দেশে উপস্থিত হয়েছেন।
সরকার বলেছে, একটি শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। এই নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক উল্লেখ করে সরকার জানায়, দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই সুযোগ কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।
দেশের স্থিতিশীলতা, অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের স্বার্থে নির্বাচনকে অবশ্যই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে হবে বলে উল্লেখ করে সরকার মনে করে, সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য ও মর্যাদাপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব।