ঢাকায় নির্বাচন সামনে রেখে কাজ করতে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সাংবাদিকরা। নির্বাচনী মাঠে সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে আইপিআই।
মেলবোর্ন,৭ ফেব্রুয়ারি: বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ইনস্টিটিউট (আইপিআই)। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান গণতান্ত্রিক পশ্চাদপসরণ ও গণমাধ্যমের ওপর বাড়তে থাকা হামলার ধারা থেকে সরে আসার এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
আইপিআই বলছে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকার, রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উচিত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি স্পষ্টভাবে দেখানো। সাংবাদিকরা যেন ভয়ভীতি ও বাধা ছাড়াই কাজ করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি। আইপিআই মনে করে, অবাধ ও স্বাধীন গণমাধ্যম ছাড়া সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক মানদণ্ডে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়।
এই নির্বাচনটি হবে ২০২৪ সালের আগস্টে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর প্রথম জাতীয় নির্বাচন। ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলন দমনে সরকারের সহিংস অভিযানের পর হাসিনা দেশ ছাড়েন। এরপর থেকে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনা করছে। ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে নতুন সরকারের কাঠামো নির্ধারিত হবে।
নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাও বেড়েছে বলে জানিয়েছে আইপিআই। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় দেশের দুটি শীর্ষ সংবাদপত্র ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়ে সহিংস হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে অন্তত ১৬টি ঘটনায় সাংবাদিকদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে অথবা তাদের কাজ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। অনেক সাংবাদিকই আশঙ্কা করছেন, নির্বাচন কাভার করতে গিয়ে তারা শারীরিক সহিংসতার শিকার হতে পারেন।
আইপিআইয়ের গ্লোবাল অ্যাডভোকেসি কর্মকর্তা রোয়ান হামফ্রিস বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য এই সন্ধিক্ষণে সব রাজনৈতিক দলেরই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপদে নির্বাচন কাভার করার অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো উচিত। তাঁর মতে, এই সময়টিকে ব্যবহার করে দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক পশ্চাদপসরণ ও গণমাধ্যমের ওপর হামলার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আঞ্চলিকভাবে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
আইপিআই আরও জানিয়েছে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারও সমালোচনার মুখে পড়েছে। সংস্থাটি মনে করে, অবাধ গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে আগামী নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে কাঙ্ক্ষিত আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারবে না।
আইপিআইয়ের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশে স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিসর সংকুচিত হয়েছে। ওই সময়ে সাংবাদিকদের ওপর শারীরিক, মৌখিক ও অনলাইন হুমকি ও হামলার ঘটনা বেড়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে এসব অপরাধ শাস্তি ছাড়াই থেকে গেছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের মতো কঠোর আইনের অপব্যবহার করে সমালোচনামুখর সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের দমন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।