আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ৭ ফেব্রুয়ারি- ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে চলমান আলোচনা আপাতত শেষ হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি)। তবে আলোচনার বিস্তারিত কোনো বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বৈঠক শেষে ইরানি আলোচক দল দেশে ফিরে গেছে বলে জানানো হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই আলোচনাকে একটি ‘ভালো শুরু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, অনেক বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে এবং সেসব ইস্যুতে ভবিষ্যতে আলোচনা অব্যাহত থাকতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, মধ্যপ্রাচ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন এবং নিজ দেশের জনগণের সঙ্গে আচরণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো আলোচনায় অগ্রাধিকার পেতে চেয়েছিল ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বুধবার এ কথা জানান।
তবে ইরানি কর্মকর্তারা বারবার স্পষ্ট করেছেন, তারা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা করতে রাজি নন। পাশাপাশি তেহরানের দাবি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হতে হবে।
শুক্রবার ওমানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও তার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল ওমানের কূটনীতিকদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনায় অংশ নেন।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদির ভূমিকার প্রশংসা করে আরাঘচি বলেন, দিনের মধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং প্রতিটি বৈঠকে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছে। তিনি জানান, আলোচনাগুলো ছিল দীর্ঘ ও নিবিড়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে কি না, তা দেশে ফিরে সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে পরামর্শের ওপর নির্ভর করবে। ভবিষ্যতে আলোচনা হলে তার সময়, স্থান ও কাঠামো ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পরবর্তী আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
মাস্কাটে আলোচনা শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট পর ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বুসাইদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বলেন, এই আলোচনা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও মানসিকতা স্পষ্ট করতে এবং সম্ভাব্য অগ্রগতির ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে সহায়ক হয়েছে।
আলোচনার আগে উভয় পক্ষই নিজেদের শক্ত অবস্থান দেখাতে তৎপর ছিল। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতি কমিশনের সদস্য ইসমাইল কাওসারি আগেই মন্তব্য করেছিলেন, এই আলোচনার কোনো বাস্তব ফল আসবে না। তিনি আইএলএনএ সংবাদ সংস্থাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে কৌশলগত খেলায় লিপ্ত হতে চায়, তবে ইরান নিজস্ব নীতির বাইরে যাবে না।
এরই মধ্যে আলোচনা শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চুয়াল দূতাবাস এক নতুন সতর্কবার্তায় মার্কিন নাগরিকদের ইরান ত্যাগ করার আহ্বান জানায়। এতে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা, যোগাযোগ সীমাবদ্ধতা, বিদেশি ফ্লাইট বাতিল এবং সড়ক বন্ধ থাকার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে দ্রুত দেশ ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সতর্কবার্তায় মার্কিন নাগরিকদের স্থলপথে আর্মেনিয়া ও তুরস্কে যাওয়ার সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিকদের ইরান ছাড়ার সময় ইরানি পাসপোর্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ ইরান দ্বৈত নাগরিকত্বকে স্বীকৃতি দেয় না।
এই সতর্কবার্তাটি ৬ ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ ওমানে আলোচনার কয়েক ঘণ্টা আগেই জারি করা হয়। এতে স্পষ্ট হয়েছে, আলোচনার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস ও উত্তেজনাও সমানতালে বজায় রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au