ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, হামলায় চারশরও বেশি ড্রোন এবং বিভিন্ন ধরনের প্রায় ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামো এমনিতেই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এর মধ্যেই তীব্র শীতের সময় নতুন করে এই হামলায় বিদ্যুৎ খাত আরও বড় চাপের মুখে পড়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া কূটনীতির বদলে হামলাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং ইউক্রেনীয় জনগণকে কাবু করতে ঠাণ্ডাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, হামলার বিষয়ে মস্কো তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইউক্রেনের জ্বালানিমন্ত্রী ডেনিশ শমিহাল জানান, দেশের পশ্চিমাঞ্চলে অন্তত দুটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ সাবস্টেশন ও প্রধান বিদ্যুৎ লাইনে আঘাত হানা হয়েছে। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই বিদ্যুৎকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো মেরামতের কাজ শুরু করবেন।
এই হামলা চালানো হয়েছে ফেব্রুয়ারির তীব্র শীতের মধ্যে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশজুড়ে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ সীমিত রাখা হয়েছে। শমিহাল বলেন, গ্রিডকে সহায়তা করতে জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে পোল্যান্ড থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু করেছে সরকার।
আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে একযোগে হামলা চালিয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় খমেলনিৎস্কাই, রিভনে, তের্নোপিল, ইভানো-ফ্রাঙ্কিভস্ক ও লভিভ অঞ্চলেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, বুরশতিন ও দব্রোৎভির তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রও এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।