শনিবার সিরিয়ান ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির প্রধান তালাল আল-হিলালি এক সংবাদ সম্মেলনে চুক্তিগুলোর ঘোষণা দেন। তিনি জানান, চুক্তির আওতায় আলেপ্পোতে একটি নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ, একটি সিরীয়-সৌদি সাশ্রয়ী এয়ারলাইন চালু এবং ‘সিল্কলিঙ্ক’ নামের একটি বৃহৎ টেলিযোগাযোগ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য সিরিয়াকে আঞ্চলিক যোগাযোগ ও ট্রানজিট হাবে পরিণত করা।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সৌদি আরব সিরিয়ার নতুন সরকারের অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক সমর্থক হিসেবে আবির্ভূত হয়। একই মাসে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলে বিনিয়োগের পথ উন্মুক্ত হয়। সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিগুলোকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর সিরিয়ায় সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সৌদি বিনিয়োগমন্ত্রী খালিদ আল-ফালিহ জানান, সৌদি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণে গঠিত নবগঠিত এলাফ তহবিল আলেপ্পো শহরে দুটি বিমানবন্দর উন্নয়নে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। অন্যদিকে সিরিয়ার যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আবদুস সালাম হায়কাল বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সংযোগ জোরদারে হাজার হাজার কিলোমিটার ফাইবার অপটিক ক্যাবল স্থাপন করা হবে।
এ ছাড়া সৌদি আরবের বাজেট এয়ারলাইন ফ্লাইনাস এবং সিরিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ‘ফ্লাইনাস সিরিয়া’ নামে একটি নতুন এয়ারলাইন প্রতিষ্ঠার চুক্তি করেছে। এই এয়ারলাইনের ৫১ শতাংশ মালিকানা থাকবে সিরিয়ার হাতে এবং এটি ২০২৬ সালের শেষ প্রান্তিকে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। জ্বালানি খাতে সৌদি প্রতিষ্ঠান এসিডব্লিউএ পাওয়ারের সঙ্গে পানি শোধন ও সরবরাহসংক্রান্ত একটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে।
আল-হিলালি বলেন, এসব চুক্তি এমন খাতকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব ফেলে এবং দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
সিরিয়ায় নিযুক্ত মার্কিন দূত টম বারাক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই চুক্তির প্রশংসা করে বলেন, অবকাঠামো ও যোগাযোগ খাতে সৌদি-সিরীয় অংশীদারিত্ব দেশটির পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে বিশ্লেষক বেঞ্জামিন ফেভ সতর্ক করে বলেন, স্বল্পমেয়াদে অর্থনৈতিক সুফলের চেয়ে এই চুক্তিগুলোর রাজনৈতিক তাৎপর্যই বেশি।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে সিরিয়া সরকার একাধিক প্রতিশ্রুতি দিলেও অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলো এখনো বাধ্যতামূলক চুক্তিতে রূপ নেয়নি, যা নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। এই চুক্তিগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন নজর বিশ্লেষকদের।