সাংবাদিক রেজানুরের গ্রেফতারে কিউআরএস’র উদ্বেগ
মেলবোর্ন, ২২ জুন- স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক ও দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোহাম্মদ রেজানুর ইসলামের গ্রেফতার…
মেলবোর্ন, ১০ ফেব্রুয়ারি- ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন ঘাঁটি ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইলের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
এক সরাসরি বার্তায় আরাঘচি বলেন, আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে হামলা চালানো সম্ভব না হলেও, এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো তেহরানের নাগালের মধ্যেই রয়েছে। তাঁর ভাষায়, ইরান যুদ্ধ এড়াতে চায় ঠিকই, তবে আগ্রাসনের মুখে তারা কোনোভাবেই নীরব থাকবে না।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উদ্দেশ্যে একটি শক্তিশালী নৌবহর পাঠানোর ঘোষণা দেওয়ার পর এই পাল্টাপাল্টি হুমকি শুরু হয়। ট্রাম্প এই পদক্ষেপকে শান্তি রক্ষার শক্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও ইরান এটিকে সরাসরি উসকানি হিসেবে দেখছে।
আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি দাবি করেন, ইরান যুদ্ধকে ভয় পায় না এবং দেশটির সামরিক বাহিনী যেকোনো আক্রমণের উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে না, তবে সেসব দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবকাঠামো হামলার আওতায় আসবে।
বর্তমানে ইরানের হাতে প্রায় দুই হাজার স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা থাকলেও এই মিসাইল ভাণ্ডারই ইরানের প্রধান প্রতিরোধ শক্তি।
খুররমশাহর ও সেজজিলের মতো উন্নত ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এর ফলে কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি, বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর সদর দপ্তর এবং কুয়েত, ইরাক ও সিরিয়ার অধিকাংশ সামরিক স্থাপনা ইরানের মিসাইল পরিসরের মধ্যে রয়েছে। এমনকি তুরস্কের ইনজিলিক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা ঘাঁটিও ঝুঁকির বাইরে নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই মিসাইল সক্ষমতা অনেকটা ‘সুইস আর্মি নাইফ’-এর মতো, যা একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও প্রতিশোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। গত বছর ইসরায়েলের দিকে প্রায় ৫০০টি মিসাইল নিক্ষেপের মাধ্যমে ইরান তাদের এই সক্ষমতারই প্রদর্শন করেছিল। যদিও ওই হামলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবুও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এখন ইরানের হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
সম্ভাব্য ইরানি প্রতিশোধ ঠেকাতে পেন্টাগন ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে থাড ও প্যাট্রিয়ট মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। জর্ডান, কুয়েত ও সৌদি আরবের মতো মিত্র দেশগুলোতে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো এবং সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।
এই উত্তেজনার মধ্যেও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওমানে দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে। তবে আরাঘচি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে কোনো আপস করবে না তেহরান। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা আঞ্চলিক মিত্রদের সহায়তা বন্ধ করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো দাবি মেনে নেওয়া হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
সব মিলিয়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি এখন মুখোমুখি অবস্থানে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর সামরিক বার্তা আর তেহরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যকে ঠেলে দিচ্ছে গভীর অনিশ্চয়তার দিকে। কূটনৈতিক সমাধান না এলে এই উত্তেজনা যে কোনো সময় বড় আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au