সাংবাদিক রেজানুরের গ্রেফতারে কিউআরএস’র উদ্বেগ
মেলবোর্ন, ২২ জুন- স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক ও দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোহাম্মদ রেজানুর ইসলামের গ্রেফতার…
মেলবোর্ন, ১১ ফেব্রুয়ারি- দেশব্যাপী সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পর ইরানে ব্যাপকভাবে বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যুদ্ধের আশঙ্কা ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই পদক্ষেপ দেশটির অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ ও বিচার বিভাগ এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধের সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি। তবে তেহরানের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলে তরুণদের জনপ্রিয় বহু ক্যাফে, রেস্তোরাঁ, আর্ট গ্যালারি ও আইসক্রিম পার্লার সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানানো হয়েছে, তাদের কনটেন্ট দেশের নিয়ম ও পুলিশি বিধি লঙ্ঘন করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বন্ধ হওয়া অনেক প্রতিষ্ঠানই ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া বিক্ষোভের প্রতি সংহতি জানিয়ে ধর্মঘট পালন করেছিল বা ইনস্টাগ্রামে সমর্থন প্রকাশ করেছিল।
সোমবার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের ঘনিষ্ঠ বার্তা সংস্থা ফার্স ৮১ বছর বয়সী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলি সাঈদিনিয়ার একটি তথাকথিত স্বীকারোক্তিপত্রের ছবি প্রকাশ করে। সাঈদিনিয়া ও তার পরিবার দেশজুড়ে জনপ্রিয় ক্যাফে ও খাদ্য ব্র্যান্ড পরিচালনা করতেন। বিচার বিভাগের তথ্যমতে, বিক্ষোভ-পরবর্তী সময়ে তাকে কারাবন্দি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার সব ব্যবসা বন্ধ করে সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। অস্থিরতার সময় হওয়া ক্ষতির ক্ষতিপূরণ আদায়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
প্রকাশিত চিঠিতে বলা হয়, বাজারের সমস্যার কারণে এবং কারখানার অর্থায়নের প্রয়োজনে তার ছেলে ভুলবশত তেহরান বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দোকান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরে তারা ভুল বুঝতে পেরে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।
ইরান সরকার দাবি করেছে, সাম্প্রতিক অস্থিরতায় ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো সহিংসতার জন্য দায়ী। তবে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির হিসাবে নিহতের সংখ্যা ৬ হাজার ৯৬৪। আরও ১১ হাজার ৭৩০টি ঘটনার তদন্ত চলছে। জাতিসংঘের বিশেষ দূত মাই সাতো বলেছেন, প্রকৃত সংখ্যা ২০ হাজারের বেশি হতে পারে, যদিও ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের কারণে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন।
বিক্ষোভ শুরুর এক মাসেরও বেশি সময় পরও ইরানের অর্থনীতি চাপে রয়েছে। মঙ্গলবার খোলা বাজারে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের দর ছিল প্রায় ১৬ লাখ ২০ হাজার রিয়াল, যা সাম্প্রতিক সময়ের সর্বনিম্নের কাছাকাছি।
তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে বেশিরভাগ দোকান খোলা থাকলেও বেচাকেনা আগের তুলনায় অনেক কম। এক ব্যবসায়ী জানান, কয়েক সপ্তাহ খুব খারাপ বিক্রির পর এখন পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হলেও বিক্রি এখনও আগের মাত্রার প্রায় ৬০ শতাংশে রয়েছে। অধিকাংশ লেনদেন নগদে হচ্ছে, চেক ব্যবহার করতে কেউ আগ্রহী নন।
ডাউনটাউনের জোমহুরি এলাকায় দোকান খোলা থাকলেও সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বেড়েছে। মাঝে মাঝে চেকপোস্ট বসানো হচ্ছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের বার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার দেশজুড়ে র্যালি ও সমাবেশের আয়োজন করেছে সরকার। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি জনগণকে এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে শত্রুকে হতাশ করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ শীর্ষ কর্মকর্তারাও এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সুত্রঃ আলজাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au