ছোট ভাই কিশোর পাশা ইমন, আপনার যদি রাজনৈতিক একটু সুস্থির জ্ঞান থাকতো আর বাংলাদেশের জন্য সত্যিকারের কোন কমিটমেন্ট থাকতো- তাহলে আপনি বুঝতে পারতেন, আমার রাজনৈতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ীই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের পরিণতি ঘটল।
আপনি কি জানেন আপনার প্রিয় তারেক জিয়া ও বিএনপিকে আপনার প্রিয় ড. মুহাম্মদ ইউনূস আমেরিকার একটি নিয়ন্ত্রিত রেজিমে রেখে গেলো? তিনি কি কি প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে মার্কিনদের সঙ্গে চুক্তি করে গেলো মাথায় নিয়েন। এই কারণেই তারেককে ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসে থাকতে হবে আর হুকুম মেনে বন্দর, দ্বীপ, তেল-গ্যাস, করিডর সব বিকিয়ে দিতে বাধ্য হবে। না হলে, শেখ হাসিনার মত ভারতে নির্বাসিত হতে হবে।
জামায়াতের পরাজয়ে আপনার উল্লাস, আপনার মত আরো বালসুলভদের উল্লাস দেখে, দেশের ফাতরা এক্টিভিস্টে ভরে যাওয়া দেখে, আগামীতে আমাদের আরো মেধাহীন অনলাইন দুনিয়ার আশংকা আরো হতাশ করছে। যে ব্লগ যুগের সূচনা হয়েছিল যে মেধায় ও সৃষ্টিশীলতায় তার বদলে এই জুলাই ও বিএনপির বিজয়ে বাংলাদেশের বিজয় মনে করার সঙ্গে তুলনা করলে বুঝতে পারি আমরা পিছিয়ে গেছি অনেক দূর!
জাস্ট চিন্তা করুন আপনারা, মামুনুল হক কত ভোট পেয়ে হেরে গেছে, ৮৬ হাজার ভোট! চিন্তা করুন বগুড়াতে তারেক রহমানের সঙ্গে হেরে যাওয়া জামায়াত নেতা পেয়েছে ৯৬ হাজার ভোট! জামায়াতের ভোট দেখুন! ঢাকা শহরে মামুনুল হকের ভোটের হার বলে দেয় রাজধানীবাসী কতখানি খিলাফতবাদী হয়ে উঠেছে। ৬৮টি আসনে জয় লাভ জামায়াতের- এতে যদি সন্তুষ্ঠ থাকেন যে তাদের খুব কমে পরাজিত করা গেছে, তাহলে তার জন্য সেই আওয়ামী লীগকেই আপনাদের ধন্যবাদ দিতে হবে যে!
আওয়ামী লীগ ভোট বর্জন করতে বলেও এ নিয়ে প্রচার চালায়নি কারণ দেশে থাকা আওয়ামী লীগ সসর্থকদের ‘না’ ভোট ও জামায়াতের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে ধানের শীষে ভোট দিতে লীগের মৌন সম্মতি ছিল। তবু ভোটার হার কম ছিল কারণ আওয়ামী লীগের অনেকে ভোট দিতে যায়নি। নৌকার ভোট ধানের শীষে পড়ার কারণেই বিএনপি দুইশোর বেশি আসন লাভ। আওয়ামী লীগ গতকালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারলে বিএনপি কতগুলো আসন পেতো? আশ্চর্য হয়েছি হ্যাঁ ভোট জিতে যাবার পরও কিশোর ইমনদের মত তরুণদের এখনো বিজয়োল্লাস এখনো কিভাবে আসে?
এবার আমার রাজনৈতিক বিশ্লেষণে আসি, আমি লিখেছিলাম বিএনপি জিতে আসলেও হ্যাঁ জিতবে। এবং বলে ছিলাম বিএনপি সংসদে একটি শক্তিশালী জামাতী বিরোধীদলের মুখোমুখি হবে। আমার কথা কি মিথ্যে হয়েছে? জুলাই সনদ পড়ে আসেন সেখানে বলা আছে, উচ্চকক্ষে ভোটের হারে রাজনৈতিক দলগুলোর সদস্যরা স্থান পাবেন। জামায়াতের ভোট দেখুন। উচ্চকক্ষে তাদের শক্তিশালী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে। বিএনপির বাপের সাধ্য নাই নারীনীতি বিল পাস করে আনবে। বিএনপি সুযোগ হবে না প্রগতিশীল কোন রাজনৈতিক কিছু পাস করে আনার। যদি না ভোট জিততো তাহলে আমাদের প্রচলিত সংবিধানে অবশ্যই বলা যেতো জামায়াতের মহাপরাজয় হয়েছে। কিন্তু তারেক জিয়া অঙ্গীকার করেছেন, তিনি হ্যাঁ ভোটের পক্ষে এবং তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবেন।
কাজেই কিশোর পাশার মত ‘লালু’দের উল্লাস কতদিন থাকে দেখা যাবে। রাজনৈতিক প্রেডিকশন হিসেবে আমি লিখেছিলাম, “একদম শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সজাগ না থাকলে সুদি মহাজনের মেটিকুলাস ডিজাইনে আপনারা ধরা খেতে পারেন। জামায়াতকে শক্তিশালী বিরোধী দল বানাতে পারলেই তাদের কাজ হয়ে যাবে। আর আপনারা বিএনপি জিতে গেলেই খুশি! জামাত-এনসিপি এই মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তিকে শক্তিশালী বিরোধী দল বানাতে পারলে জামায়াতের জুলাই চেতনা বজায় থাকবে। বিএনপি জিতেও যেখানে হেরে যাবে।”
মানে আমি লিখেছিলাম, ইউনূস মেটিকুলাস ডিজাইন অনুসারে নির্বাচনটা করবে। সেটা কি সে করেনি? হ্যাঁ ভোট পাস করানোটাই তাদের দরকার ছিল। জুলাইয়ের গণহত্যা লুট সহিংসতাকে বৈধতা দিতে, মুক্তিযুদ্ধকে মুছে দিতে হ্যাঁ ভোট জিততেই হতো। ইউনূসের পার্টি এনসিপি ৬টি আসন পেয়েছে। তিনি বলেছিলেন, তরুণদের দল খুব ভালো ফল করবে। এনসিপি বাংলাদেশের নৌকা, ধানের শীষের ভোটের মাঝখানে ঠিক কিসের যোগ্যতায় ৬টি আসন পেয়ে গেলো? যারা মব, চাঁদাবাজী, গুন্ডামী করে দেড় বছর দেশকে অস্থিতিশীল করে রেখেছিল, যাদেরকে জামায়াতে যোগ দেওয়ার কারণে সাধারণ ভোটাররা অভিযুক্ত করেছিল তারা নৌকা-ধানের শীষ ভোটের সংস্কৃতিকে কোন আলাদিনের চেরাগে বদলে দিলো? নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারীর কেমন করে মির্জা আব্বাসের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে? কারা তাকে ভোট দিয়েছে? ৩০০ আসনে তো মেটিকুলাস ডিজাইন করবে না, তাহলে বোকাদের কি করে ফেয়ার ইলেকশন বলে বিশ্বাস করাবে?
চিন্তা করুন। ভাবুন। আপনারা জিতে গেছেন নাকি হেরে বসে আছেন! ভাবুন, ভাবার প্র্যাকক্টিস করুন!
লেখক: সুষুপ্ত পাঠক