বাংলাদেশ

স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার নেতৃত্বে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

  • 4:44 am - February 14, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২২০ বার
নিহত জসিম উদ্দিন। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১৪ ফেব্রুয়ারি- মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলে নির্বাচনী বিরোধের জেরে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর এক সমর্থককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত জসিম উদ্দিন (৩০) মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের নায়েব চর আবদুল্লাহ গ্রামের বাসিন্দা এবং মাফিক নায়েবের ছেলে।

পরিবারের দাবি, ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক এবং সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার নেতৃত্বে একদল লোক তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় জসিমকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহত জসিম উদ্দিন মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর-গজারিয়া) আসনে ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের সমর্থক ছিলেন। এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন এবং জয়ী হন কেন্দ্রীয় বিএনপির সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় মহিউদ্দিনকে পরে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে জসিম উদ্দিন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় নাসির দেওয়ান ও তাঁর ছেলে শাকিল দেওয়ানের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল সেখানে যায়। অভিযোগ রয়েছে, তারা বাড়িতে ঢুকে জসিম উদ্দিন, তাঁর বাবা মাফিক নায়েব, ভাই মোখলেস নায়েব ও মহসিন নায়েবকে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় জসিম ও তাঁর ভাই মোখলেস এবং বাবা মাফিক নায়েবকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জসিমের মৃত্যু হয়।

জসিমের বড় ভাই মসিউর নায়েব বলেন, ফুটবল প্রতীকের পক্ষে কাজ করাই তাদের একমাত্র ‘অপরাধ’। তাঁর ভাষ্য, কারও সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না। শুধুমাত্র নির্বাচনী অবস্থানের কারণে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

অভিযুক্ত শাকিল দেওয়ান সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক। তাঁর বক্তব্য, সকালে জসিমদের পক্ষ থেকে ধানের শীষের সমর্থকদের ওপর হামলা হয়েছিল। তিনি এ ঘটনায় অভিযোগ জানাতে থানায় যান। পরে জসিম ও তাঁর লোকজন এলাকা ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম বলেন, পূর্ববিরোধ ও নির্বাচনী দ্বন্দ্বের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই বিভিন্ন স্থানে বিরোধ ও সহিংসতার যে অভিযোগ উঠছে, এই ঘটনাটি সেই ধারাবাহিকতার অংশ কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই শাখার আরও খবর

গাইবান্ধায় ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক গ্রেপ্তার

গাইবান্ধায় ১৪ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাসান আলীকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। ঘটনার পর মামলা…

মদ্যপানের পর হেরোইন খুঁজতে টঙ্গীর মাঠে যান তাহসিফ, পুলিশের ধাওয়ায় বিচ্ছিন্ন হন দীপ

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুরহস্য তদন্তে তাঁর জীবনের শেষ রাতের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। প্রেমিকার সঙ্গে মনোমালিন্য, উত্তরার একটি…

গার্মেন্টস খাতের অস্থিরতায় সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তৈরি পোশাক খাতে চলমান অস্থিরতার পেছনে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন জোগানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে মুখোশধারীরা ঢুকে…

এবার ঢাবির হলে হলে অভিযান, জগন্নাথ থেকে ছাত্রলীগ নেতা অর্ক রায় গ্রেপ্তার

ওটিএন বাংলা রিপোর্ট : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলগুলোতে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীদের অবৈধ অবস্থান ঠেকাতে তৎপর হচ্ছে হল প্রশাসন। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল থেকে…

বুলেটপ্রুফ কাচের আবরণে দাঁড়িয়ে ভক্তদের দেখা দিলেন অমিতাভ

মুম্বাইয়ে নিজের বাড়ি ‘জলসা’র সামনে প্রতি রোববার ভক্তদের সঙ্গে দেখা করার দীর্ঘদিনের রীতি বলিউড অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের। তবে এবার সেই চেনা আয়োজনে যুক্ত হয়েছে বাড়তি…

শ্রমিক অসন্তোষে ৫২৯ কারখানা থেকে শ্রমিকদের বেরিয়ে যাওয়া, কাজে অনুপস্থিত প্রায় ১০ লাখ

দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষের জেরে ৫২৯টি কারখানা থেকে শ্রমিকেরা বের হয়ে গেছেন। এসব কারখানার প্রায় ৯ লাখ ৮৭ হাজার শ্রমিক কাজে যোগ দেননি। সবচেয়ে…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au