মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাসান আলী। ছবিঃ সংগৃহীত
গাইবান্ধায় ১৪ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাসান আলীকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। ঘটনার পর মামলা দায়ের হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে পলাশবাড়ী উপজেলা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে এসআরবির সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার হাসান আলী গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের পোড়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের মৃত কছিম উদ্দিনের ছেলে। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় দ্বীনের দিশারী মহিলা হাফেজিয়া ও কওমী মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক।
এসআরবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রায় আট বছর আগে ওই মাদরাসার আবাসিক শাখায় ছাত্রীকে ভর্তি করান তাঁর পরিবারের সদস্যরা। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থীর বয়স ১৪ বছর। তাঁর বাবা-মা কর্মসূত্রে ঢাকায় বসবাস করেন। তাঁরা প্রতি মাসে মেয়ের ভরণপোষণের খরচ পাঠাতেন এবং মাঝেমধ্যে মাদরাসায় এসে মেয়ের সঙ্গে দেখা করতেন।
মামলার এজাহারের বরাতে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত মাদরাসা পরিচালক প্রায় ছয় মাস আগেও ওই ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে তখন বিষয়টি নিয়ে কোনো মামলা হয়নি।
এজাহার অনুযায়ী, গত ২৮ আগস্ট সকাল ৬টার দিকে মাদরাসা পরিচালক হাসান আলী ওই ছাত্রীকে মাদরাসাসংলগ্ন নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। এ সময় ঘটনাটি অন্য কাউকে জানালে তাঁকে হত্যা এবং মরদেহ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মোবাইল ফোনে ঢাকায় থাকা তাঁর বাবা-মাকে বিষয়টি জানান। মেয়ের কাছ থেকে ঘটনা জানার পর তাঁরা গাইবান্ধায় এসে গত ১ সেপ্টেম্বর সদর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্ত হাসান আলী আত্মগোপনে ছিলেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৩ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।
এসআরবির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে পলাশবাড়ী উপজেলার ঢোলভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর হাসান আলীকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনত নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।