গাইবান্ধায় ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক গ্রেপ্তার
গাইবান্ধায় ১৪ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাসান আলীকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। ঘটনার পর মামলা…
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুরহস্য তদন্তে তাঁর জীবনের শেষ রাতের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। প্রেমিকার সঙ্গে মনোমালিন্য, উত্তরার একটি বারে মদ্যপান, এরপর হেরোইন খুঁজতে টঙ্গীর একটি মাদক স্পটে যাওয়া এবং সেখানে পুলিশের উপস্থিতিতে বন্ধুর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা উঠে এসেছে মামলায় গ্রেপ্তার বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের জিজ্ঞাসাবাদে। তবে শেষ পর্যন্ত কীভাবে তাহসিফ তুরাগ নদে পড়ে মারা গেলেন, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি তদন্তকারীরা।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর রাতে তাহসিফ, তাঁর বন্ধু দীপ ও পরিচিত তরুণী জারিকা তাসনিম দিশা উত্তরার একটি বারে যান। পরে সেখানে মদ্যপান শেষে দিশাকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে দীপকে সঙ্গে নিয়ে টঙ্গীর একটি মাঠে যান তাহসিফ। সেখানে হেরোইন সংগ্রহ করে সেবন করেন তিনি বলে দীপ জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন। একপর্যায়ে ওই এলাকায় পুলিশের একটি টহল দল উপস্থিত হলে মাদকসেবী ও কারবারিরা পালাতে শুরু করেন। এ সময় দীপও নদীর পাড়ের দিকে চলে যান। এরপর থেকে তাহসিফের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
প্রেমিকার সঙ্গে বিরোধ, বারে মদ্যপান
রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে দীপ জানান, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৮ মিনিটে তাহসিফ, জারিকা তাসনিম দিশা ও তিনি উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের নেস্ট বারে যান। কয়েক দিন আগে দিশা অন্য এক যুবকের বাসায় ইয়াবা সেবন করেছিলেন এবং ওই যুবকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন বলে তাহসিফ জানতে পারেন। বিষয়টি জানার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে অস্বস্তিতে ছিলেন। এ নিয়ে দিশার সঙ্গে বিরোধও চলছিল।
দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন বারে গিয়ে তাহসিফ কর্তৃপক্ষকে সাউন্ড সিস্টেমে বিষণ্ন সংগীত বাজানোর অনুরোধ করেন। পরে তিনজনই মদ্যপান করেন। রাত ১২টা পর্যন্ত বারে অবস্থানকালে দিশার সঙ্গে অন্য যুবকের সম্পর্ক নিয়ে তাহসিফের কথা-কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে দিশাকে উদ্দেশ করে তাহসিফ বলেন, ‘তুমি তো ইয়াবা খেয়েছ, আমি এর চেয়েও বড় কিছু খাব। আমি হেরোইন খাব।’
দিশাকে বাসায় পৌঁছে টঙ্গীর মাদক স্পটে তাহসিফ
রাত ১২টার দিকে বার থেকে বেরিয়ে তাহসিফ নিজের মোটরসাইকেলে দিশাকে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসায় পৌঁছে দেন। দীপও নিজের মোটরসাইকেলে সেখানে যান। এরপর দুজন টঙ্গী বাজার বস্তিসংলগ্ন একটি মাঠের উদ্দেশে রওনা হন।
দীপের দাবি, ওই মাঠে যাওয়ার সিদ্ধান্ত তাহসিফ নিজেই নিয়েছিলেন। মাঠের পাশে বস্তি এলাকায় মোটরসাইকেল রেখে তাঁরা হেঁটে মাঠের দিকে যান। সেখানে স্থানীয় মাদকসেবী ও কারবারিসহ অনেক মানুষের উপস্থিতি ছিল।
জিজ্ঞাসাবাদে দীপ জানান, মাঠে পৌঁছে তাহসিফ উচ্চস্বরে হেরোইন চান এবং এর জন্য যত টাকা প্রয়োজন, তা দিতে রাজি আছেন বলে জানান। পরে কয়েকজন মাদক কারবারির কাছ থেকে হেরোইন সংগ্রহ করে সেবন করেন তিনি। বারে মদ্যপানের পর মাদক সেবন করায় তাহসিফ নিজের ওপর অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন বলে দাবি করেন দীপ।
পুলিশের উপস্থিতিতে পালিয়ে যান দীপ
দীপের বক্তব্য অনুযায়ী, তাহসিফ যখন মাদক সেবন করছিলেন, তখন সেখানে পুলিশের একটি টহল দল উপস্থিত হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয় মাদক কারবারিরা দ্রুত সরে যেতে শুরু করেন। এ সময় দীপও দৌড়ে নদীর পাড়ের দিকে চলে যান। পরে নদীর ২৯ নম্বর পিলারের পেছনে গিয়ে আত্মগোপন করেন। এতে তাহসিফের সঙ্গে তাঁর বিচ্ছিন্নতা ঘটে।
দীপ জানান, দুই থেকে তিন মিনিট পর দুই পুলিশ সদস্য তাঁকে ঘিরে ধরেন। তাঁরা তাঁর নাম-পরিচয় ও ঠিকানা জানতে চান। এ সময় দীপ নিজেকে ক্যাপ্টেন তাহসিফের বন্ধু বলে পরিচয় দেন। তাঁর বাসা মোহাম্মদপুরে জানালে পুলিশ সদস্যরা এত রাতে সেখানে আসার কারণ জানতে চান। জবাবে তিনি একটি কাজে এসেছেন বলে জানান।
পরে পুলিশ সদস্যরা তাঁকে বাসায় চলে যেতে বললেও তিনি সরাসরি সেখান থেকে বের না হয়ে বস্তির একটি সরু রাস্তা দিয়ে ভেতরে ঢুকে যান।
পুলিশের কাছে তাহসিফের বন্ধু হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে দীপ দাবি করেন, বিভিন্ন প্রয়োজনে তিনি এ পরিচয় ব্যবহার করেন। এমনকি ট্রাফিক পুলিশ আটকালে নিজেকে বাহিনীর ক্যাপ্টেন বলেও পরিচয় দেন। ঘটনার রাতেও পুলিশের হাত থেকে রক্ষা পেতে একই পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন বলে জানান তিনি।

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি। ছবিঃ সংগৃহীত
তাহসিফকে না পেয়ে বাসায় ফেরেন দীপ
দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, বস্তির ভেতরে ঢোকার পর তিনি রাস্তা চিনতে পারছিলেন না। পরে এক মাদকসেবীর সহায়তায় মূল সড়কে ফিরে আসেন। এরপর নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে তাহসিফকে একাধিকবার ফোন করেন। কিন্তু প্রতিবারই তাঁর ফোন বন্ধ পান।
দীপ ধারণা করেছিলেন, তাহসিফ যেহেতু মাদক সেবন করতে এসেছেন, তাই মাদক না নিয়ে সেখান থেকে চলে যাবেন না। এ ছাড়া তাহসিফ তাঁর কাছ থেকে ফোন চার্জ দেওয়ার জন্য একটি পাওয়ার ব্যাংক নিয়েছিলেন। ফলে ফোনের চার্জ শেষ হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে বলেও মনে করেছিলেন তিনি।
পরে তাহসিফের খোঁজ না পেয়ে নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে মোহাম্মদপুরের বাসায় ফিরে ঘুমিয়ে পড়েন বলে দাবি করেন দীপ। তবে তাহসিফকে নদীতে পড়ে যেতে বা পানিতে ডুবে যেতে তিনি দেখেননি বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।
ঘটনাস্থলে নিয়ে বক্তব্য যাচাই, সামনে এল ভিডিও
তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, দীপকে সঙ্গে নিয়ে তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তাঁর দেওয়া বক্তব্যের বিভিন্ন অংশ যাচাই করা হয়েছে। তাহসিফের মরদেহে বাইরে থেকে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। উত্তরার নেস্ট বারের বিভিন্ন বিষয়ও তদন্তকারীরা যাচাই করেছেন।
এদিকে তাহসিফ ও দীপের টঙ্গী বাজার বস্তিসংলগ্ন মাঠে যাওয়ার একটি ভিডিও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। ওই ভিডিওতে তাহসিফকে বস্তির সরু রাস্তা দিয়ে মাঠের দিকে যেতে দেখা যায়। তাঁর পেছনে হাতে হেলমেট নিয়ে হাঁটছিলেন দীপ। এ সময় তাহসিফকে দীপের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘দীপ, ডোন্ট টক টু মাচ, লেটস ওয়াক।’
তদন্তসংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, মোবাইল ফোন বিশ্লেষণ, বারের তথ্য, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিক বিষয় বিবেচনায় প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ডের পরিবর্তে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হতে পারে বলে মনে হচ্ছে। পুলিশের উপস্থিতিতে পালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাহসিফ পানিতে পড়ে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে তদন্তকারীরা এখনো এ বিষয়ে নিশ্চিত নন। দীপের বক্তব্য আরও যাচাই করা প্রয়োজন। ময়নাতদন্ত ও রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ময়নাতদন্তে পাকস্থলী, কিডনি ও রক্তের নমুনা সংগ্রহ
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তাহসিফের ময়নাতদন্তের সময় তাঁর পাকস্থলী ও কিডনির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ভিসেরা ও রক্তের নমুনাও পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্যও নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফরেনসিক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, মরদেহটি আনুমানিক ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পানির নিচে ছিল। প্রাথমিকভাবে পানিতে ডুবেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, তাহসিফ বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন। সাধারণত তাঁর সাঁতার জানার কথা। সে ক্ষেত্রে তিনি এমন কোনো পরিস্থিতিতে পানিতে পড়েছিলেন কি না, যেখানে সাঁতারের দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ পাননি, সেটিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
তাহসিফ মাদক সেবন করেছিলেন কি না, তাঁর শরীরে কোনো বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি ছিল কি না, কিংবা পানিতে পড়ার আগে তিনি শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়েছিলেন কি না, তা পরীক্ষার প্রতিবেদন থেকে জানা যেতে পারে।
যেভাবে উদ্ধার হয় তাহসিফের মরদেহ
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বন্ধু দীপের ডাকে উত্তরার বাসা থেকে বের হন বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি (২৮)। ওই রাতে মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলে তিনি বাসায় ফেরার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর আর বাড়ি ফেরেননি।
রাত ১টার দিকে তাহসিফের ফোন থেকে তাঁর মায়ের মেসেঞ্জারে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, ‘রওনা দিসি আসতেছি।’
পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর আসে। পরে টঙ্গী নৌপুলিশ রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। মরদেহের পকেটে থাকা আইফোনের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত হয় তাহসিফের।
পুলিশ জানায়, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে বাইরে থেকে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ২৯ অক্টোবর ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বন্ধুকে হেফাজতে নেওয়া, উদ্ধার মোটরসাইকেল
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে নামে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত ২৯ অক্টোবর গভীর রাতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসা থেকে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়।
তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমদিকে দীপ দাবি করেছিলেন, একটি রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার খাওয়ার পর উত্তরার হাউজ বিল্ডিং এলাকায় তাহসিফের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান তিনি। তবে পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে টঙ্গীর মাদক স্পটে যাওয়ার কথা জানান।
তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ অক্টোবর সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

বিমানবাহিনীর চাকরিচ্যুত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় আটক আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ মুখ খুলতে শুরু করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ছবি: সংগৃহীত
হত্যা মামলা, চার দিনের রিমান্ডে দীপ
ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমদিকে মামলা করতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। তবে ৩০ অক্টোবর দিবাগত রাতে তিনি উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
পরে দীপকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় নৌপুলিশ। ৩১ অক্টোবর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তাঁর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
দিশাকেও গ্রেপ্তার, রিমান্ড আবেদন
এদিকে রোববার (১ নভেম্বর) তাহসিফের সঙ্গে ঘটনার রাতে উত্তরার নেস্ট বারে যাওয়া তরুণী জারিকা তাসনিম দিশাকে কাফরুলের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে নৌপুলিশ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ এবং তাহসিফের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে দিশার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ এবং ঘটনার রাতে একসঙ্গে বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তের একাধিক দিক খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দীপ ও দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি ঘটনাস্থলের ভিডিও, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং ময়নাতদন্ত ও রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের মতে, তাহসিফ কীভাবে নদীতে পড়েছিলেন, মৃত্যুর আগে তিনি মাদক গ্রহণ করেছিলেন কি না এবং তাঁর মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের পরবর্তী ধাপে। আপাতত তাঁর মৃত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখার একটি প্রাথমিক ধারণা থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য পরীক্ষার প্রতিবেদন অপেক্ষা করছেন তাঁরা।
সূত্র: ঢাকা পোস্ট
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au