নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট প্রার্থীর মাত্র ৪.০৮ শতাংশ ছিলেন নারী। মোট ৮৪ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সরাসরি নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র সাতজন নারী সংসদ সদস্য। এটি সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাধারণ আসনে জয়ী হন ১৯ জন নারী।
এর আগে ২০১৮ সালে ২২ জন এবং ২০১৪ সালে ১৮ জন নারী সংসদে নির্বাচিত হন। গত দুই দশকে সর্বোচ্চ নারী প্রতিনিধি নির্বাচিত হন ২০০৮ সালে, যখন ১৯ জন নারী সংসদে পৌঁছান। সর্বশেষ নির্বাচনের ফল ২০০১ সালের পর সর্বনিম্ন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
দলভিত্তিক প্রার্থিতার হিসাব অনুযায়ী, বিএনপি মনোনয়ন দেয় ১০ জন নারীকে, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) তিনজনকে, জাতীয় পার্টি ছয়জনকে এবং গণঅধিকার পরিষদ তিনজনকে। জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কোনো নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি।
ধর্মীয় ও নৃগোষ্ঠীগত সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্বও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সরাসরি নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র চারজন সংখ্যালঘু প্রার্থী, সবাই বিএনপির মনোনীত। তাঁরা হলেন— ঢাকা-৩ আসনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মাগুরা-২ আসনে নিতাই রায় চৌধুরী, বান্দরবান আসনে সাচিং প্রু এবং রাঙামাটি আসনে দীপেন দেওয়ান।
এর আগে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের সংসদে সরাসরি নির্বাচিত সংখ্যালঘু সদস্যের সংখ্যা ছিল ১৮ জন করে। ২০২৪ সালের সংসদে ১৪ জন সংখ্যালঘু প্রার্থী জয়ী হন, যাদের মধ্যে ১২ জন ছিলেন বর্তমানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী। সর্বশেষ নির্বাচনে বিএনপি ছয়জন সংখ্যালঘু প্রার্থী মনোনয়ন দিলেও বাগেরহাট-১ আসনে কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল এবং বাগেরহাট-৪ আসনে সোমনাথ দে পরাজিত হন।
নির্বাচনে মোট অন্তত ৭৯ জন সংখ্যালঘু প্রার্থী অংশ নেন। দেশের নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২২টি দল থেকে ৬৭ জন সংখ্যালঘু প্রার্থী মনোনয়ন পান এবং আরও ১২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এম জাকারিয়া বলেন, আগের সরকার বা নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি তুলনা সব সময় যথাযথ নয়। তাঁর মতে, আগের তিনটি নির্বাচন ছিল না অংশগ্রহণমূলক, না প্রতিযোগিতামূলক; সেখানে নারীদের প্রতিনিধিত্ব অনেকাংশেই ক্ষমতাসীন সরকারের মনোনয়নের ফল ছিল, প্রকৃত নির্বাচনী প্রতিযোগিতার নয়। তবে তিনি স্বীকার করেন, নারী ও সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব এখনো উদ্বেগজনকভাবে কম।
এম জাকারিয়ার ভাষায়, নির্বাচনী প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে উন্নত হলে এই ক্ষেত্রটিতে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া জরুরি। নারী ও সংখ্যালঘুদের নিজেদেরও রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে এই দাবি সামনে আনতে হবে, যাতে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ কাঠামোয় অধিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে বাধ্য হয়। এতে ধীরে ধীরে ক্ষমতায়নের পথ সুগম হবে এবং সংসদে তাদের অংশগ্রহণও বাড়বে।