স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম (বামে) ও কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান (ডানে)
মেলবোর্ন, ২৮ এপ্রিল- জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ সময় ধরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মন্তব্য, হট্টগোল এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগে সংসদ কক্ষ কার্যত অস্থির হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বারবার হস্তক্ষেপ করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনার সময় এই ঘটনা ঘটে। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বক্তব্যের শুরুতেই ফজলুর রহমান তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত মন্তব্যের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, সংসদের ভেতরে তাকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করা হচ্ছে। এ সময় স্পিকার তাকে প্রশ্ন করেন, কেউ সরাসরি এমন মন্তব্য করেছেন কি না। জবাবে ফজলুর রহমান কিছুটা উত্তপ্তভাবে প্রতিক্রিয়া জানান।
এরপর তিনি মুক্তিযুদ্ধ, রাজনৈতিক পরিচয় এবং জামায়াতে ইসলাম প্রসঙ্গ টেনে কঠোর মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যে বিরোধী দলের সদস্যরা প্রতিবাদ জানালে সংসদে শোরগোল শুরু হয়। একপর্যায়ে স্পিকার বারবার সবাইকে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
সংসদের ভেতরে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় স্পিকার কঠোর অবস্থান নেন। তিনি সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, এটি জাতীয় সংসদ এবং এখানে শৃঙ্খলা রক্ষা করা বাধ্যতামূলক। তিনি সবাইকে ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে বিরত থেকে নিয়ম অনুযায়ী বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান।
পরবর্তীতে ফজলুর রহমান তার বক্তব্য চালিয়ে যান এবং ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধ, শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড এবং পুলিশ হত্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যু তুলে ধরেন। তিনি অতীত রাজনৈতিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে শোক প্রস্তাব ও ইনডেমনিটি প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সতর্কবার্তাসহ বক্তব্য শেষ করেন। তবে পুরো অধিবেশনজুড়ে উত্তেজনা ও হট্টগোলের কারণে সংসদ কক্ষে অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করে।