আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ১৪ ফেব্রুয়ারি- ভারত–যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নতুন মোড় এসেছে। চুক্তি–সংক্রান্ত মার্কিন ফ্যাক্টশিটে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী এনেছে হোয়াইট হাউস। সংশোধিত নথিতে আগের কয়েকটি বাধ্যবাধকতার ভাষা শিথিল করা হয়েছে, এমনকি কিছু প্রতিশ্রুতির উল্লেখ পুরোপুরি বাদও দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে কূটনৈতিক ও বাণিজ্য মহলে।
প্রথমত, আগের নথিতে বলা হয়েছিল ভারত আমেরিকান ডালজাত পণ্যে শুল্ক কমাবে। কিন্তু সংশোধিত ফ্যাক্টশিটে এই দাবি আর নেই। অর্থাৎ নির্দিষ্ট কিছু ডাল আমদানিতে শুল্ক হ্রাসের যে কথা বলা হয়েছিল, তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন। কারণ, কৃষি খাতে বাজার উন্মুক্ত করা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছিল।
ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডাল উৎপাদক ও ভোক্তা দেশ। মসুর, ছোলা ইত্যাদি পণ্যে উচ্চ শুল্ক আরোপের মাধ্যমে দিল্লি বরাবরই কৃষকদের সুরক্ষা দিয়ে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে ডাল সংক্রান্ত অংশ বাদ পড়া থেকে ধারণা করা হচ্ছে, কৃষি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার নিয়ে ভারত নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
আগের ফ্যাক্টশিটে উল্লেখ ছিল, ভারত সব মার্কিন শিল্পপণ্য এবং বিপুল পরিমাণ খাদ্য ও কৃষিপণ্য থেকে শুল্ক তুলে নেবে বা কমাবে। তালিকায় ছিল ডিডিজি, লাল জোয়ার, বাদামজাত পণ্য, তাজা ও প্রক্রিয়াজাত ফল, নির্দিষ্ট কিছু ডাল, সয়াবিন তেল, ওয়াইন ও স্পিরিট। সংশোধিত নথিতে ‘নির্দিষ্ট কিছু ডাল’ অংশটি বাদ দেওয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয়, ‘কৃষিপণ্য’ শব্দটিও সংশোধিত সংস্করণ থেকে সরানো হয়েছে। আগে বলা হয়েছিল, ভারত জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, কৃষিপণ্য, কয়লা ও অন্যান্য খাতে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য কিনবে। এখন বলা হচ্ছে, ভারত এসব খাতে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। অর্থাৎ বাধ্যতামূলক অঙ্গীকারের জায়গায় ‘ইচ্ছা’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাষার এই পরিবর্তন কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এতে বোঝা যাচ্ছে, চুক্তির কাঠামো এখনো আলোচনাধীন এবং ভারত বাধ্যবাধকতার বদলে নমনীয় অবস্থান বজায় রাখতে চাইছে।
ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স নিয়েও অবস্থান নরম হয়েছে। আগের নথিতে বলা হয়েছিল, ভারত এই কর তুলে নেবে। কিন্তু সংশোধিত ফ্যাক্টশিটে সেই লাইন নেই। এখন বলা হয়েছে, বৈষম্যমূলক বা অতিরিক্ত বোঝা সৃষ্টি করে এমন ডিজিটাল বাণিজ্য–সংক্রান্ত বাধা দূর করতে দ্বিপক্ষীয় নিয়ম প্রণয়নের বিষয়ে ভারত আলোচনা করতে রাজি হয়েছে। অর্থাৎ কর প্রত্যাহারের সরাসরি অঙ্গীকারের বদলে আলোচনার পথ খোলা রাখা হয়েছে।
ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির রূপরেখা আগামী মার্চের মধ্যে স্পষ্ট হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছিল প্রায় এক বছর আগে। এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করে। পরে রাশিয়া থেকে তেল কেনার জেরে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়। এতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন চরমে পৌঁছে।
সাম্প্রতিক সমঝোতার পর সেই শুল্কহার ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামানো হয়েছে। এতে ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে। যদিও এ বিষয়ে দিল্লি আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি।
এদিকে বাণিজ্য নীতিতে অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে ভারত বিকল্প পথও খুঁজছে। জানুয়ারি মাসে তারা ইউরোপীয় ইউনিয়ন–এর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সই করে ভারত। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ায় দিল্লি একাধিক দেশের সঙ্গে পৃথক চুক্তির মাধ্যমে ঝুঁকি কমানোর কৌশল নিয়েছে।
সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনায় ভাষাগত শিথিলতা এলেও মূল প্রশ্নগুলো এখনো পুরোপুরি মীমাংসিত হয়নি। কৃষি, ডিজিটাল কর এবং আমদানি–রপ্তানির ভারসাম্য—এসব বিষয়েই আগামী দিনে চূড়ান্ত সমঝোতা কতটা সম্ভব হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au