‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ১৪ ফেব্রুয়ারি- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে আয়োজিত গণভোটে সংবিধান সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, মোট ভোটারের ১৭ দশমিক ২৮ শতাংশ সরাসরি ‘না’ ভোট দিয়েছেন এবং ৩৯ দশমিক ১৬ শতাংশ ভোটার ভোটদান থেকে বিরত থেকেছেন। সব মিলিয়ে প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোটদানকারী ও ভোটে অংশ না নেওয়া ভোটারের হার দাঁড়িয়েছে ৫৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে মোট ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ জন। অর্থাৎ মোট ভোটারের প্রায় ৩৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ সরাসরি সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। বাতিল হয়েছে ৫ দশমিক ৮১ শতাংশ ভোট।
অন্যদিকে ‘না’ ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ জন। পক্ষে ও বিপক্ষে মোট ভোট পড়েছে ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩টি। সে হিসাবে ৫ কোটি ১৬০ জন ভোটার গণভোটে অংশ নেননি। ‘না’ ভোটদানকারী এবং অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকা ভোটার মিলিয়ে সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৮৮৬ জন, যা মোট ভোটারের ৫৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
জুলাই সনদে প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কারের মধ্যে ছিল জাতীয় সংসদে উচ্চকক্ষ গঠন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনা, একই ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান পদে না থাকা এবং একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে না পারার বিধান। দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এ সনদে সই করেছে। একটি দল কিছু বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে নোট অব ডিসেন্টসহ সই করেছে, আর একটি বড় দল এতে সই করেনি। জনসম্মতি যাচাই করতেই জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটের আয়োজন করা হয়।
স্বাধীনতার পর দেশে এর আগে তিনবার গণভোট হয়েছে—১৯৭৭, ১৯৮৫ ও ১৯৯১ সালে। ১৯৭৭ সালের ৩০ মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার নীতি ও কর্মসূচির প্রতি জনগণের সমর্থন যাচাইয়ে গণভোটের আয়োজন করেন। ১৯৮৫ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নিজ নীতি ও রাষ্ট্রপতি পদে বহাল থাকার বিষয়ে জনমত জানতে গণভোট দেন। আর ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী নিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসিত নাকি সংসদীয় পদ্ধতি হবে, তা নির্ধারণে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় একটি দল ছাড়া প্রায় সব রাজনৈতিক দল ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালায়। ওই গণভোট পরিচালনার জন্য প্রণয়ন করা হয় গণভোট আইন, ১৯৯১ এবং গণভোট বিধিমালা, ১৯৯১। এবারের গণভোটও একই আইন ও বিধিমালার অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল নির্বাচন ভবনে ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত চতুর্থ গণভোটে অংশ নিয়েছেন মোট ভোটারের ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। অংশগ্রহণকারী ভোটারদের মধ্যে ৬৮ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন এবং ৩১ দশমিক ৯৪ শতাংশ ‘না’ ভোট দিয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন বলেন, অনেকেই ভোট দেননি, বিশেষ করে একটি দলের সমর্থকদের বড় অংশ অংশ নেয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে যারা ভোট দিয়েছেন, তাদের সংখ্যা প্রায় সাত কোটির মতো। তার মতে, এ সংখ্যাকে একেবারে কম বলা যাবে না; বরং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোটার অংশ নিয়েছেন।
সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক রেক্টর একেএম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, গণভোটে যে বিপুলসংখ্যক মানুষ ভোট দিয়েছেন, সেটিই মূল বিবেচ্য। যারা ভোট দিতে আসেননি, তারা কার্যত অংশ নেননি। অতীতেও কম অংশগ্রহণের মধ্যেই গণভোটের ফল বাস্তবায়িত হয়েছে। তার ভাষায়, যারা কেন্দ্রে এসে ভোট দিয়েছেন, তাদের মতামতই এখানে গণ্য হয়েছে; যারা আসেননি, তাদের অবস্থানকে সক্রিয় মতামত হিসেবে ধরা যায় না।
ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাজধানী ঢাকাসহ রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে ‘হ্যাঁ’ ভোটের হার ছিল প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ। অন্যদিকে ঢাকা বিভাগের কয়েকটি জেলা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ‘না’ ভোট তুলনামূলক বেশি পড়েছে। সামগ্রিকভাবে গণভোটে অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হলেও মোট ভোটারের বড় একটি অংশ ভোটে না আসায় রাজনৈতিক মহলে এর তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au