মেলবোর্নে পুরবী কালচারাল ফাউন্ডেশনের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপন। ছবিঃ ওটিএন বাংলা
মেলবোর্ন, ১৪ ফেব্রুয়ারি- মেলবোর্নে পুরবী কালচারাল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উদ্যাপন করা হয়েছে বর্ণাঢ্য আয়োজনে। ক্লেটন হলে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে। ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা জাগ্রত করা এবং বহুভাষিকতার সৌন্দর্য তুলে ধরাই ছিল আয়োজনের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে মেলবোর্নের দুই স্বনামধন্য সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সুরলোক’ ও ‘কবিতায়ন’।
ভিক্টোরিয়ার বহুসাংস্কৃতিক সমাজে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে পুরবী কালচারাল ফাউন্ডেশন। সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, অসাম্প্রদায়িক ও অলাভজনক এই সংগঠনটি স্থানীয় সাংস্কৃতিক স্কুল, কমিউনিটি সংগঠন, সিটি কাউন্সিল এবং রাজ্য ও ফেডারেল সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখে চলেছে।

মেলবোর্নে বসবাসরত গুণী বাংলাদেশি শিল্পীদের পাশাপাশি কলকাতা থেকে আগত কয়েকজন শিল্পীও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। ছবিঃ ওটিএন বাংলা
অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পী ও লেখকদের পরিবেশনায় ছিল সংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য। বাংলাদেশি স্ট্রিট ফুড স্টল, পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও গয়নার স্টল অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণকে রঙিন করে তোলে এবং পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত ও বাঙালিয়ানায় ভরিয়ে দেয়।

ক্লেটন হলে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে। ছবিঃ ওটিএন বাংলা
পার্থ চক্রবর্তীর কণ্ঠে ‘রেল লাইনের ঐ বস্তিতে” বাংলাদেশের পপ সম্রাট আজম খানের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও আবেগঘন কালজয়ী গানটি দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ আলোড়ন তোলে এবং আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করে। ‘কবিতায়ন’-এর পরিবেশনায় কবিতা আবৃত্তি দর্শকেরা গভীর মনোযোগ ও আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করেন। মেলবোর্নে বসবাসরত গুণী বাংলাদেশি শিল্পীদের পাশাপাশি কলকাতা থেকে আগত কয়েকজন শিল্পীও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন, যা আয়োজনটিকে আন্তর্জাতিক রূপ দেয়।

অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছিল পুরবী কালচারাল ফাউন্ডেশনের নিজস্ব প্রোডাকশন। ছবিঃ ওটিএন বাংলা
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছিল পুরবী কালচারাল ফাউন্ডেশনের নিজস্ব প্রোডাকশন, যেখানে ছোট ছোট শিশুদের অংশগ্রহণে ভাষা আন্দোলন ও মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসার বার্তা তুলে ধরা হয়। শিশুদের পরিবেশনা দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে তোলে এবং প্রবাসী প্রজন্মের মাঝে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব নতুন করে মনে করিয়ে দেয়।