মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ১৫ ফেব্রুয়ারি- গাইবান্ধার সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের খামার বল্লমঝাড় গ্রামে আইনজীবীর সহকারী অমিতাভ চন্দ্র ওরফে সুজন মহুরীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। শুক্রবার রাতের ওই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা। হত্যার পেছনে পূর্ববিরোধ ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
নিহত সুজন চন্দ্র গাইবান্ধা জেলা জজ আদালতে মহুরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শুক্রবার রাত আটটার দিকে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নিহত সুজন চন্দ্র আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। নির্বাচনের আগে জামায়াত শিবিরের লোকজন তার কাছে ভোট চাইতে আসলে তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়া হয়। তারাই পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে ধারণা করছে পরিবার।
ঘটনার পর শনিবার সকাল থেকেই খামার বল্লমঝাড় গ্রামে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পরপরই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই রাতেই ঘর থেকে বের হননি। সকাল থেকে গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
নিহতের পরিবার আগের বক্তব্যে যে রাজনৈতিক বিরোধের কথা জানিয়েছিল, সেটিই এখন তদন্তের কেন্দ্রে। পরিবার দাবি করছে, নির্বাচনের আগে কিছু রাজনৈতিক কর্মীর সঙ্গে সুজনের বাকবিতণ্ডা হয়েছিল এবং সে সময় তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। তাদের অভিযোগ, সেই ঘটনার জেরেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
তবে পুলিশ বলছে, বিষয়টি একপাক্ষিকভাবে দেখার সুযোগ নেই। গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, হত্যার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। পূর্ববিরোধ, ব্যক্তিগত শত্রুতা কিংবা অন্য কোনো বিষয় জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করতে কাজ চলছে এবং কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হয়েছে বলে তিনি জানান। এখনো পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তারের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
এদিকে সুজন চন্দ্রের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে আঘাতের ধরন ও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জুলফিকার রহমান বলেন, এমন নৃশংস ঘটনা এলাকায় আগে ঘটেনি। তিনি দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
আইনজীবী মহলেও এ হত্যাকাণ্ডে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। জেলা জজ আদালতের কয়েকজন আইনজীবী জানান, আদালতের সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মীর ওপর এ ধরনের হামলা উদ্বেগজনক। তারা নিরাপত্তা জোরদার ও দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি ও সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের দিকে এখন সবার নজর। এলাকায় নতুন করে সহিংসতা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
আরও পড়ুন-
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au