এসএসসির ৪র্থ দিনে অনুপস্থিত ৩২ হাজার, বহিষ্কার ৪৯ জন
মেলবোর্ন, ২৯ এপ্রিল- সারা দেশে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার চতুর্থ দিনে অনুপস্থিতির সংখ্যা ৩২ হাজার ছাড়িয়েছে, একই সঙ্গে নকল ও অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে বহিষ্কার করা…
মেলবোর্ন ১৬ ফেব্রুয়ারি- দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙে এবার নতুন সরকারের শপথ হতে যাচ্ছে বঙ্গভবনের বাইরে। মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
একই দিন সকালে একই স্থানে শপথ নেবেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও।
স্বাধীনতার পর থেকে সাধারণত রাষ্ট্রপতি যেখানে অবস্থান করেন, সেখানেই সরকার গঠনের শপথ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা হয়েছে বঙ্গভবনে। রাষ্ট্রপতিই প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান—এটাই ছিল প্রতিষ্ঠিত রীতি।
বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ নেয় ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায়। মুক্তিযুদ্ধকালীন সেই সরকার ‘অস্থায়ী সরকার’ নামে পরিচিত। স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার বঙ্গভবনে শপথ নেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়ান তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।

ঐতিহাসিক মুজিবনগর সরকারের সদস্যবৃন্দ।ছবি: সংগৃহীত
রাজনৈতিক ও সংসদীয় বিশ্লেষকদের মতে, বৈদ্যনাথতলার ঐতিহাসিক শপথের পর আর কোনো সরকারের শপথ বঙ্গভবনের বাইরে হয়েছে—এমন নজির তাদের জানা নেই। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারও বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নিয়েছিল।
গত শুক্রবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭টির ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচনhttps://www.jugantor.com/international/1066408 কমিশন। বিএনপি ও তাদের মিত্ররা ২১২টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পথে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ৬৮ আসন পেয়ে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে। বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়েছেন অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
সংবিধান অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিধান রয়েছে। স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি শপথ পড়াতে পারেন। নির্ধারিত সময়ে শপথ না হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে শপথের সুযোগ রয়েছে।
২০২৪ সালের নির্বাচনের পর স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া শিরীন শারমিন চৌধুরী বর্তমানে প্রকাশ্যে নেই। ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুও কারাগারে। ফলে কে সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন, তা নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
সংসদ বিষয়ক গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক নিজামউদ্দিন আহমেদ বলেন, শপথ সাধারণত রাষ্ট্রপতি যেখানে থাকেন, সেখানেই হয়ে থাকে। তার ভাষায়, রাষ্ট্রপতি কোথাও গিয়ে শপথ পড়ান—এমন নজির তিনি শোনেননি; বরং সবাই রাষ্ট্রপতি ভবনেই গিয়ে শপথ নিয়েছেন।
অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, দক্ষিণ প্লাজায় শপথ আয়োজনের অভিপ্রায় বিএনপির পক্ষ থেকেই এসেছে। তার মতে, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ ও গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত এ সংসদ ভিন্ন তাৎপর্য বহন করে, তাই সংসদ প্রাঙ্গণকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
সিপিবির জ্যেষ্ঠ নেতা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, অতীতে রাষ্ট্রপতি ভবনের বাইরে মন্ত্রিসভার শপথের নজির নেই। তবে শপথের স্থান নয়, দেশের নীতি ও শাসনব্যবস্থার দিকনির্দেশনাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সব মিলিয়ে, নতুন সরকারের শপথস্থল বদলের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। ঐতিহাসিক রীতির বাইরে গিয়ে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ আয়োজন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au