মেলবোর্ন, ১৭ ফেব্রুয়ারি- অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানিয়েছেন, ইসলামিক স্টেটের (আইএসআইএস) সঙ্গে সম্পৃক্ত অস্ট্রেলীয় পরিবারগুলোকে সিরিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার কোনো ধরনের সহায়তা করবে না। তার ভাষায়, যারা স্বেচ্ছায় উগ্রপন্থী গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়ে বিদেশে গেছেন, তাদের সিদ্ধান্তের দায়ভার তাদের নিজেদেরই নিতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকার জানায়, আইএস যোদ্ধাদের স্বজন হিসেবে পরিচিত এসব অস্ট্রেলীয় নাগরিক ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে সিরিয়ার শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছেন। গতকাল উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার আল-রোজ শিবির থেকে ১১টি পরিবার দামেস্ক হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় ফেরার উদ্যোগ নেয়। তবে কুর্দি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল থেকে যাত্রার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় না থাকায় সিরীয় কর্তৃপক্ষ তাদের ফিরিয়ে দেয়।
দলটিতে মোট ৩৪ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিক আছেন। যার মধ্যে ১১ জন নারী এবং ২৩ জন শিশু। তারা ২০১৯ সালে আইএসের তথাকথিত ‘খেলাফত’ পতনের পর থেকে সিরিয়ার বিভিন্ন শিবির ও কারাগারে আটক ছিলেন।
অধিকাংশ নারীই আইএস যোদ্ধাদের স্ত্রী, যাদের কেউ নিহত, কেউবা আটক হয়েছেন। কয়েকজন নারী পূর্বে দাবি করেছিলেন, তারা স্বেচ্ছায় সিরিয়ায় যাননি এবং শিবিরে থাকা বহু শিশুর জন্ম সেখানেই।
আলবানিজ বলেন, ‘আইনের অধীনে সরকারের কিছু দায়বদ্ধতা থাকলেও এসব পরিবারকে কোনো সহায়তা বা প্রত্যাবাসন দেওয়া হবে না।
এসব ব্যক্তিকে অস্ট্রেলীয় পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছে কি না- সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, ‘যদি কেউ নিজ উদ্যোগে দেশে ফিরতে সক্ষম হয় এবং কোনো আইন ভঙ্গ করে থাকে, তবে তাকে আইনের পূর্ণ প্রয়োগের মুখোমুখি হতে হবে।’
বিরোধীদল লিবারেল পার্টির সিনেটর সারা হেন্ডারসন এসব নাগরিকের ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, যারা আইএস মতাদর্শে বিশ্বাসী বা সংশ্লিষ্ট- তাদের দেশে প্রবেশ ঠেকাতে সরকারের হাতে বিভিন্ন আইনগত ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি তাদেরকে অস্থায়ী বহিষ্কার আদেশ জারির বিষয়টি বিবেচনার পরামর্শ দেন।
অস্থায়ী বহিষ্কার আদেশের মাধ্যমে ১৪ বছর বা তার বেশি বয়সী কোনো অস্ট্রেলীয় নাগরিককে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে হলে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত অনুমতি ছাড়া দেশে প্রবেশে বাধা দেওয়া যায়।
গৃহমন্ত্রী টনি বার্ক জানিয়েছেন, এমন আদেশ জারির শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থার পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।
সিরিয়ার আল-রোজ শিবিরের পরিচালক হাকমিয়েহ ইব্রাহিম আগে বিদেশি সরকারগুলোকে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার বক্তব্য, শিবিরে শিশুরা বিপজ্জনক মতাদর্শের পরিবেশে বড় হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এর আগে বিভিন্ন সময়ে অস্ট্রেলিয়া সীমিত পরিসরে নাগরিকদের ফিরিয়ে এনেছে। ২০১৯ সালে তৎকালীন মরিসন সরকার একটি সহায়তা সংস্থার সহযোগিতায় আটজন এতিম শিশুকে সিরিয়া থেকে দেশে আনে।
এরপর ২০২২ সালে আলবানিজ সরকার চারজন নারী ও তাদের ১৩ শিশুকে ফিরিয়ে আনে। তবে গত বছর একটি ছোট দল দেশে ফেরার ঘটনায় সরকার জানায়, তাদের কোনো প্রত্যক্ষ সহায়তা দেওয়া হয়নি।
বর্তমানে আল-রোজ শিবির ত্যাগ করা পরিবারগুলো আবারও ফেরার চেষ্টা করবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সরকার স্পষ্ট করেছে, তারা কোনো আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবে না।