আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ১৯ ফেব্রুয়ারি: অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ সিডনির লাকেম্বা মসজিদে পাঠানো হুমকিমূলক চিঠির ঘটনার সঙ্গে ওয়ান নেশন নেত্রী পলিন হ্যানসনের সাম্প্রতিক মুসলিমবিরোধী মন্তব্যের যোগসূত্র টেনেছেন। স্কাই নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হ্যানসন প্রশ্ন তুলেছিলেন, “কীভাবে আমাকে বোঝাবেন যে ভালো মুসলমান আছে?”—এই মন্তব্যের পরপরই লাকেম্বা মসজিদ তৃতীয় দফায় হুমকিমূলক চিঠি পাওয়ার কথা জানায়।
হুমকির সর্বশেষ চিঠিতে হাতে আঁকা একটি শূকরের ছবি ছিল এবং “মুসলিম জাতিকে হত্যা” করার হুমকিও উল্লেখ করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আলবানিজ এবিসিকে বলেন, “অবশ্যই এর সঙ্গে যোগ আছে। কারণ এ ধরনের বক্তব্য ঘৃণাকে বৈধতা দেয়, মূলধারায় টেনে আনে।”
প্রধানমন্ত্রী পলিন হ্যানসনকে “বিভাজন সৃষ্টিকারী চরিত্র” আখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়েছেন মানুষকে বিভক্ত করে। “আমাদের আরও ঐক্য দরকার, আরও বিভাজন নয়,” বলেন আলবানিজ।
ওয়ান নেশনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। সাম্প্রতিক জরিপে দলটির উত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “তাদের কোনো অর্থনৈতিক নীতি নেই। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিটি উদ্যোগের বিরুদ্ধেই তিনি ভোট দিয়েছেন।”

অস্ট্রেলিয়ার ডানপন্থী দল ওয়ান নেশনের নেতা পলিন হ্যানসন। ছবিঃ সংগৃহীত
স্কাই নিউজে দেওয়া পরবর্তী এক উত্তপ্ত সাক্ষাৎকারে হ্যানসন মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি অংশকে কষ্ট দেওয়ার জন্য ‘দুঃখপ্রকাশ’ করলেও বলেন, তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসবেন না। এ মন্তব্য ঘিরে দুই প্রধান দলসহ বিভিন্ন মহল থেকে ব্যাপক সমালোচনা আসে। এমনকি সদ্য নির্বাচিত ওয়ান নেশন এমপি বার্নাবি জয়েসও বিষয়টি থেকে দূরত্ব রাখার চেষ্টা করেন।
এই ঘটনাপ্রবাহ এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের সাম্প্রতিক সিডনি সফরের বিরোধিতায় আয়োজিত এক বিক্ষোভে সাবেক ‘অস্ট্রেলিয়ান অব দ্য ইয়ার’ গ্রেস টেমকে “ফ্রম গ্যাডিগাল টু গাজা, গ্লোবালাইজ দ্য ইনতিফাদা” স্লোগান দিতে দেখা যায়। সে সময় বন্ডাই বিচে সন্ত্রাসী হামলার পর জারি থাকা প্রতিবাদ-নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসে।
সংসদে গ্রেস টেমের মন্তব্যের নিন্দা জানাতে বলা হলে আলবানিজ বলেন, “এই ভয়াবহ পরিস্থিতিকে রাজনৈতিক সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। আমাদের উত্তেজনা কমাতে হবে।”
এদিকে নিউ সাউথ ওয়েলস সরকার “গ্লোবালাইজ দ্য ইনতিফাদা” বাক্যাংশটি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। কুইন্সল্যান্ড ইতোমধ্যে তা নিষিদ্ধ করেছে, যদিও এতে সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের আশঙ্কা রয়েছে। আরবি শব্দ ‘ইনতিফাদা’ মধ্যপ্রাচ্যের দুটি গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত; প্রো-প্যালেস্টাইন সমাবেশে শব্দটি ব্যবহৃত হলেও ইহুদি সম্প্রদায়ের একটি অংশ এটিকে সহিংসতার আহ্বান হিসেবে দেখে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au