ভারতবিরোধী অবস্থান নিয়ে ‘ফাঁদে পা’ দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি: সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২০ ফেব্রুয়ারি- ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক অস্বাভাবিক টানাপোড়েন দেখা দেয়। আসরটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ভারত ও শ্রীলঙ্কায়। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে কিছু অস্বাভাবিক দাবি তোলে, যা পরে বড় বিতর্কের জন্ম দেয়।
বিশ্ব ক্রিকেটে এশিয়ার দলগুলোর প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান—এই দেশগুলো মিলেই সবচেয়ে বেশি দর্শক টানে। কিন্তু মাঠের বাইরে ঐক্যের ছবি নেই। বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা বলে ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের হুমকি দেয়। তাদের যুক্তি ছিল, ভারত সফর না করায় বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় তারা সংহতি প্রকাশ করছে।
এই প্রেক্ষাপটে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল হক এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম হয়তো পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভির প্রভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বাংলাদেশের সিদ্ধান্তে পাকিস্তানের কোনো ভূমিকা ছিল কি না। জবাবে আশরাফুল হক বলেন, বিষয়টি পুরোপুরি রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যে ফেলতে তিনি চান না। তবে তার ধারণা, আমিনুল ইসলাম অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণে প্রভাবিত হয়েছিলেন। তার ভাষায়, শেষ পর্যন্ত লাভ কার হলো—সেটাই বড় প্রশ্ন।
বাংলাদেশের ভারত সফরে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে দলটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে। এ বিষয়ে আশরাফুল হক বলেন, তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল তড়িঘড়ি করা। বিশেষ করে তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টার ভূমিকাও তিনি প্রশ্নের মুখে তোলেন। তার মতে, মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলে খেলতে না দেওয়ার ঘটনার কারণে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার যৌক্তিকতা ছিল না।
তিনি বলেন, বোর্ড চাইলে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ ছিল। আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজন ও নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছিল এবং তা নিশ্চিতও করেছিল। এরপরও উদ্বেগ থাকলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তার অনুরোধ জানানো যেত।
আশরাফুল হকের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কূটনীতি সম্পর্কে বিসিবি সভাপতির যথেষ্ট ধারণা নেই। তিনি সরকারের মন রক্ষা করতে গিয়ে ক্রিকেটারদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেননি। এতে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন খেলোয়াড়রাই।
তিনি উল্লেখ করেন, লিটন দাস, মুস্তাফিজুর রহমান ও নাজমুল হোসেন শান্তর মতো ক্রিকেটাররা এখন ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আছেন। তাদের জন্য এই বিশ্বকাপ মিস করা বড় ক্ষতি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমী দর্শকদের জন্যও এটি হতাশাজনক। তার মতে, ভারতের পর বাংলাদেশেই ক্রিকেট নিয়ে সবচেয়ে বেশি উন্মাদনা রয়েছে। এমন এক বিশ্বকাপে জাতীয় দলকে দেখতে না পাওয়া সমর্থকদের জন্য বড় ধাক্কা।
সব মিলিয়ে, এই সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু একটি টুর্নামেন্টে সীমাবদ্ধ নয়। এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রিকেটের অবস্থান, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
সূত্রঃ এনডিটিভি