শেখ হাসিনা কি আবারও বাংলাদেশের ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন?
গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছর পূর্ণ হওয়ার দিন, গত ৫ আগস্ট ভারত থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি ঘোষণা করেন, ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরবেন। তাঁর…
মেলবোর্ন, ২১ ফেব্রুয়ারি- বান্দরবান পার্বত্যাঞ্চলের চিম্বুক পাহাড়ে আশির দশকে এক কিশোরের হাতে জন্ম নেওয়া ম্রো বর্ণমালা এখন ডিজিটাল দুনিয়ায় স্বীকৃতি পেয়েছে। সরকারি উদ্যোগে তৈরি কিবোর্ড অ্যাপ যুক্ত হয়েছে গুগল প্লে স্টোরে। ফলে ম্রো ভাষাভাষীরা এখন মোবাইল ও কম্পিউটারে নিজস্ব হরফে সহজেই লিখতে পারছেন। বই, ব্লগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই বাড়ছে মাতৃভাষার ব্যবহার।
সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ২০২৩ সালে কয়েকটি আদিবাসী ভাষাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়। ভাষা প্রযুক্তিবিদ সমর এন সরেন জানান, প্রথম দফায় চাকমা, মারমা, ম্রো ও সাঁওতালি ভাষা কিবোর্ডে যুক্ত করা হয়। পরে মাহালি ও মাল্টো ভাষাও যুক্ত হয়। চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি ‘ইউবোর্ড’ নামে অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোরে উন্মুক্ত করা হয়েছে। এখন যে কেউ অ্যাপটি ডাউনলোড করে এসব ভাষায় লিখতে পারেন।
এর আগে ‘কেইমেন’ নামে একটি অ্যাপ ব্যবহার করে ম্রো ভাষায় লেখা হতো। তবে নতুন অ্যাপে হরফ ব্যবহারে আরও সুবিধা হয়েছে বলে জানিয়েছেন লামা উপজেলার পোপা মৌজার হেডম্যান ও কম্পিউটার রাইটার যোহন ম্রো। বান্দরবান শহরে তার কম্পিউটার দোকানে এখন নিয়মিত ম্রো ভাষায় লেখা ছাপাতে আসেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। তিনি নিজেও ‘দ্য ম্রোচা ডট ব্লগ স্পট’ নামে একটি ব্লগ পরিচালনা করেন, যেখানে ম্রো সমাজব্যবস্থা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি নিয়ে লেখা প্রকাশিত হয়।
১৯৮২ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ম্রো ভাষার বর্ণমালা প্রবর্তন করেন বান্দরবান সদর উপজেলার টংকাবতি ইউনিয়নের ক্রামাদি পাড়ার বাসিন্দা মেনলে ম্রো। তখন তিনি পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন দীর্ঘ না হলেও নিজস্ব উদ্যোগে ভাষার হরফ তৈরি করেন তিনি। পরে চিম্বুক পাহাড় ও আশপাশের এলাকায় স্কুল গড়ে তুলে বর্ণমালা শেখাতেন। ১৯৮৪ সালে তিনি নিখোঁজ হন। এরপর আর তার খোঁজ মেলেনি।

ম্রো ভাষায় ফেইসবুকের পোস্ট
ম্রোদের বিশ্বাস, একদিন তিনি ফিরে আসবেন। তার প্রবর্তিত হরফেই এখন বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের রাখাইন ও শান রাজ্যের ম্রো জনগোষ্ঠী ভাষা চর্চা করছে। ম্রো ভাষার লেখক ও গবেষক ইয়াংঙান ম্রো জানান, ম্রো বর্ণমালায় ৩১টি স্বরধ্বনি রয়েছে। এ হরফে ইতোমধ্যে ব্যাকরণ, গল্প, গান, এমনকি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বইও প্রকাশিত হয়েছে।
ডিজিটাল কিবোর্ড যুক্ত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্রো ভাষার ব্যবহার বেড়েছে। উন্নয়নকর্মী মেলকম ম্রো বলেন, ছোটবেলায় বর্ণমালা শেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। এখন ফেসবুকে নিয়মিত মাতৃভাষায় লেখেন। নিজের ভাষায় লেখার অনুভূতি আলাদা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফেকরু ম্রোও জানান, বিভিন্ন কোর্স করে তিনি ভাষাটি শিখেছেন। নিয়মিত না হলেও ফেসবুকে নিজের ভাষায় পোস্ট করেন।
লেখক ইয়াংঙান ম্রো বলেন, অ্যাপ চালুর আগে মোবাইলে ম্রো ভাষায় লেখা প্রায় অসম্ভব ছিল। এখন মেসেজ পাঠানো, নম্বর সংরক্ষণ, এমনকি হিসাব-নিকাশও নিজস্ব হরফে করা যাচ্ছে। এটি ভাষা সংরক্ষণে বড় পদক্ষেপ।
ম্রো অধ্যুষিত পাড়াগুলোতে নিজস্ব উদ্যোগে বর্ণমালা শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। বাগানচাষী ও ভাষা প্রশিক্ষক ঙানসিং ম্রো জানান, নিজেদের খরচে বই ছাপিয়ে শিশুদের শেখানো হয়। সম্প্রতি ম্রো ভাষায় একটি গণিতের বই প্রকাশ করা হয়েছে, যার প্রথম ধাপে ৪০০ কপি ছাপানো হয়েছে।

ম্রো ভাষায় গণিতের বই।ছবিঃ সংগৃহীত
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট নিয়মিত দুই মাসব্যাপী ম্রো ভাষা কোর্স পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক নুক্রাচিং মারমা বলেন, নতুন ব্যাচ শিগগিরই শুরু হবে।
ভাষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বে প্রতিদিন একটি করে ভাষা বিলুপ্ত হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে ম্রো ভাষার ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি শুধু প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, সাংস্কৃতিক টিকে থাকারও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। চিম্বুক পাহাড়ের এক কিশোরের স্বপ্ন আজ বৈশ্বিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জায়গা করে নিয়েছে।
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au