আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন ২২ ফেব্রুয়ারি- পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে তিন দিনব্যাপী সামরিক মহড়ায় নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সায়াদ–৩জির নৌ সংস্করণের প্রথম পরীক্ষা চালিয়েছে ইরান।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী, সংক্ষেপে Islamic Revolutionary Guard Corps, মহড়ার অংশ হিসেবে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যায়, ভূমিভিত্তিক সায়াদ–৩ ক্ষেপণাস্ত্রের নৌ সংস্করণ যুদ্ধজাহাজ শহীদ সায়াদ শিরাজী থেকে উল্লম্বভাবে উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, সায়াদ–৩জি ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ১৫০ কিলোমিটার এবং এটি যুদ্ধজাহাজকে ঘিরে আঞ্চলিক আকাশ প্রতিরক্ষা সুরক্ষা বলয় তৈরি করতে সক্ষম।
ইরান ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রথম দূরপাল্লার ভূমিভিত্তিক সায়াদ–৩ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। সেই সংস্করণের পাল্লা ছিল প্রায় ১২০ কিলোমিটার, দৈর্ঘ্য ৬ মিটার এবং ওজন প্রায় ৯০০ কেজি। নতুন নৌ সংস্করণকে ওই প্রযুক্তির উন্নত রূপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
মহড়ার আগে ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ পাইলটদের জন্য বিশেষ নোটিশ জারি করে দেশের আকাশসীমার বড় অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Middle East Monitor জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কার্যক্রমের কারণে নির্দিষ্ট কয়েকটি অঞ্চলকে বিপজ্জনক এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং সেখানে বিমান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রাখা হয়।
এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। অনেক সংস্থা বিকল্প পথে উড়োজাহাজ চালানো শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রও তাদের বেসামরিক উড়োজাহাজ পরিচালনাকারীদের জন্য সতর্কতা জারি করে। সমন্বয়হীন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ বেসামরিক উড়োজাহাজের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়।
বর্তমানে ইরানের আকাশসীমা ঘন নজরদারিতে রয়েছে। পশ্চিমা নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা এই মহড়াকে শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে দেখছেন। এমন এক সময়ে এই পরীক্ষা চালানো হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইরানকে নিয়ে কড়া অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।
ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি হবে কি না, তা অল্প সময়ের মধ্যেই স্পষ্ট হবে। চুক্তি না হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তেহরান থেকে কোনো হুমকি এলে তা প্রতিহত করতে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি ব্যবহারের কথাও জানান তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে সায়াদ–৩জি ক্ষেপণাস্ত্রের এই পরীক্ষা শুধু সামরিক সক্ষমতার প্রদর্শন নয়, বরং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও একটি কৌশলগত বার্তা বহন করছে।
সুত্রঃ আনাদোলু
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au