‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ২৩ ফেব্রুয়ারি- বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের আলোচিত নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ঘিরে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। কথিত রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তারের প্রায় এক বছর পর সরকার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তাঁর জামিন নিয়ে নতুন করে জল্পনা ছড়ায়। বিভিন্ন মহল থেকে তাঁর মুক্তির দাবি উঠলেও, একটি মহল তাঁর জামিন চান না—এমন অভিযোগও সামনে এসেছে।
রোববার ২২ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করে দাবি করা হয়, “চিন্ময় প্রভুর জামিন হয়েছে।” তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, এ তথ্য সঠিক নয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এটি গুজব এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা। শান্ত পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া আরও কিছু ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়, চিন্ময় ব্রহ্মচারীর মা তাঁর মুক্তি নিয়ে কোনো কর্মসূচি না নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁর অনুরোধে জেলা প্রশাসক ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে বলেও প্রচার করা হয়। তবে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ঘনিষ্ঠজনেরা এসব দাবির সত্যতা অস্বীকার করেছেন।
আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের মতে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস মুক্তি পেলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তিনিই থাকবেন। এতে অন্য ধর্মীয় নেতারা আড়ালে পড়ে যেতে পারেন, এমন আশঙ্কা থেকেই একটি অংশ তাঁর জামিন চান না।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের অন্যতম মুখপাত্র কুশল বরণ চক্রবর্তী তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর মুক্তির যে খবর ছড়ানো হচ্ছে, তা অসত্য। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব দ্রুতই চিন্ময় মুক্তি পাবেন।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। ছবিঃ সংগৃহীত
তথ্য যাচাইকারী সংস্থা রিউমর স্ক্যানার টিমও অনুসন্ধান করে জানিয়েছে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস জামিন পেয়েছেন—এ দাবি সঠিক নয়। তিনি এখনও কারাগারেই আছেন। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি তাঁর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারিত রয়েছে।
অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ২৪–এ ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সেদিনের শুনানিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ভার্চুয়ালি আদালতে হাজির করা হয়। তাঁর আইনজীবী অপূর্ব ভট্টাচার্য জানান, অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করা হয়েছে এবং তা শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। সে কারণে নিম্ন আদালতে সময় প্রার্থনা করা হয়, যা মঞ্জুর করেছেন আদালত।
প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে কোথাও তাঁর জামিন মঞ্জুরের তথ্য পাওয়া যায়নি। আইনজীবী অপূর্ব ভট্টাচার্য রিউমর স্ক্যানারকে বলেন, “জামিন হয়নি। পুরোনো পোস্ট দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা রয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার শুনানি হবে।”
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মতো আলোচিত ব্যক্তিত্ব জামিন পেলে তা দেশের প্রধান গণমাধ্যমগুলোতে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হতো। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে এমন তথ্য মেলেনি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের নেতৃত্বে চট্টগ্রামে সনাতনী সম্প্রদায়ের একটি বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কয়েক দিন পর ৩১ অক্টোবর তাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়। ওই মামলায় আরও ১৮ জনকে আসামি করা হয়।
পরে ২২ নভেম্বর রংপুরে তাঁর নেতৃত্বে আরও একটি বড় সমাবেশ হয়। এরপর ২৫ নভেম্বর ঢাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
সেদিন আদালতের নির্দেশের পর চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আইনজীবীদের সঙ্গে চিন্ময়ের অনুসারীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় আদালত চত্বরে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন। এরপর থেকে কারাগারেই আছেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au