জাবির হলে পানিতে ২২০ গুণ আয়রন ।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৫ ফেব্রুয়ারি- স্বাস্থ্যসম্মত পানির জন্য দীর্ঘদিন পরিচিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এবার উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি আবাসিক হলে ব্যবহৃত পানিতে আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত সহনীয় মাত্রার প্রায় ২২০ গুণ বেশি আয়রন পাওয়া গেছে। এতে করে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল প্রশাসন পানির নমুনা পরীক্ষা করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণাকেন্দ্রে। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পানিতে আয়রনের সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা ০.৩ পিপিএম হলেও ওই হলে আয়রনের পরিমাণ পাওয়া গেছে ৬৬.৫ পিপিএম।
তুলনামূলক বিশ্লেষণের জন্য মীর মশাররফ হোসেন হলের পানিও পরীক্ষা করা হয়। সেখানে আয়রনের পরিমাণ পাওয়া গেছে ৩ পিপিএম, যা নির্ধারিত মানের চেয়ে বেশি। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল ও নবাব সলিমুল্লাহ হল একই পানির পাম্প ব্যবহার করায় দুটি হলের প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী একই উৎসের পানি পান করছেন।
ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণাকেন্দ্রের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম বলেন, নমুনা বিশ্লেষণে কাজী নজরুল ইসলাম হলের পানিতে আয়রনের মাত্রা অত্যন্ত বেশি পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন এ পানি ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, বোতলে পানি সংরক্ষণ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তা লালচে হয়ে যাচ্ছিল। এ থেকেই সন্দেহের সৃষ্টি হয়। হলের শিক্ষার্থী মো. মহিউদ্দীন আহমেদ সৌরভ বলেন, এতদিন সরাসরি ট্যাপের পানি পান করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলে অতিরিক্ত আয়রনের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের অধ্যাপক মাহফুজা মোবরক জানান, দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত আয়রনযুক্ত পানি পান করলে হেমোক্রোমাটোসিস ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। এতে লিভার, হৃদযন্ত্র ও অগ্ন্যাশয়ে আয়রন জমে অঙ্গ বিকলের ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি লিভারে প্রদাহ, ফাইব্রোসিস ও সিরোসিসের আশঙ্কা থাকে। গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা এবং ত্বক ও চুলের জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতেই নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে এবং ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক ও উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ বলেন, প্রাথমিক ফলাফল উদ্বেগজনক। অন্যান্য হলের পানিতেও একই সমস্যা আছে কি না তা পরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজনে ছয়টি হলের পানি নতুন করে পরীক্ষা, পাম্প স্থানান্তর কিংবা বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয় বিবেচনা করা হবে।
দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।