আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২৫ ফেব্রুয়ারি- আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতীয় শহীদ সেনা দিবস। ২০০৯ সালের এই দিনে ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস সদর দপ্তরে বিদ্রোহের নামে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞে মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা নির্মমভাবে নিহত হন। শাকিল আহমেদের স্ত্রীসহ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিকও প্রাণ হারান। পরের দিন পর্যন্ত সহিংসতা অব্যাহত ছিল।
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টার দিকে পিলখানার দরবার হলে বার্ষিক দরবার চলাকালে এই হামলার সূচনা হয়। তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের বক্তব্যের একপর্যায়ে বিদ্রোহী সদস্যরা অতর্কিত হামলা চালায়। সশস্ত্র আক্রমণে সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয় এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করা হয়। দুই দিনের রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বিদ্রোহের অবসান ঘটে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
২৭ ফেব্রুয়ারি পিলখানার ভেতরে একাধিক গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায়। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ ও তার স্ত্রীর লাশসহ নিহত সেনা কর্মকর্তাদের মরদেহ। এ ঘটনায় ২৮ ফেব্রুয়ারি হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়, যা পরে নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তরিত হয়।
২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ঢাকার তৃতীয় বিশেষ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সাবেক ডিএডি তৌহিদসহ ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ২৭৭ জনকে খালাস দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত ১৯ জানুয়ারি ২৫০ জন বিডিআর জওয়ানকে জামিন দেওয়া হয় এবং ২৩ জানুয়ারি ১৭৮ জন মুক্তি পান।
দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক বাণীতে বলেন, পিলখানার হত্যাযজ্ঞের নেপথ্যে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী তৎপরতা বিদ্যমান ছিল। তিনি জানান, ২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর থেকে দিনটি ‘শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। তিনি শহীদদের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিচারপ্রক্রিয়া চলমান থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তবে নাগরিক হিসেবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রেক্ষাপট অনুধাবন করা জরুরি।
১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও ২৫ ফেব্রুয়ারির সেই রক্তাক্ত স্মৃতি আজও দেশবাসীর মনে বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে আছে। জাতীয় শহীদ সেনা দিবসে রাষ্ট্র ও বিভিন্ন সংগঠন শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au