‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ২৫ ফেব্রুয়ারি- পশ্চিম এশিয়াকে কেন্দ্র করে নতুন আঞ্চলিক জোট গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। দু’দিনের সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসরায়েল পৌঁছানোর আগেই তিনি ‘ষড়ভুজ জোট’-এর ধারণা সামনে আনেন। প্রস্তাবিত এই জোটে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ভারতকে পাশে চান নেতানিয়াহু।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর মতে, পশ্চিম এশিয়া ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে এমন একটি শক্তিশালী অক্ষ গড়ে তোলা প্রয়োজন, যা চরমপন্থী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সমন্বিত অবস্থান নিতে পারবে। কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সম্ভাব্য নিরাপত্তা সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের এই উদ্যোগ একটি পাল্টা কৌশল হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত ‘ষড়ভুজ জোটে’ ভারত ছাড়াও গ্রিস ও সাইপ্রাস থাকবে। পাশাপাশি আরব, আফ্রিকা ও এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশকে যুক্ত করার আগ্রহ রয়েছে তেল আবিবের। তার ভাষায়, মোদি’র সফর পশ্চিম এশিয়ায় চরমপন্থার বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার প্রক্রিয়াকে নতুন গতি দিতে পারে।
নতুন জোটের লক্ষ্য কী— সে প্রশ্নে ইসরায়েলের অবস্থান স্পষ্ট। প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানে সমন্বয় জোরদার করাই হবে প্রধান উদ্দেশ্য। সদস্য দেশগুলো পারস্পরিক মতামত বিনিময় করবে এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার মাধ্যমে ফলপ্রসূ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন নেতানিয়াহু।
ভারত দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে আসছে। বিভিন্ন সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদি সন্ত্রাস দমনে বৈশ্বিক ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের এই প্রস্তাব আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের মত।
এদিকে নয়াদিল্লি ও তেল আবিব উভয়েই মনে করছে, মোদি’র সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে। কৌশলগত অংশীদারিত্ব, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, কৃষি প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সন্ত্রাস মোকাবিলায় সমন্বয় জোরদার করতে একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ক বিশেষ উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই সফরের ফলে অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশাবাদী।
অন্যদিকে, তৃতীয় দফায় দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি মোদি’র প্রথম ইসরায়েল সফর। কূটনৈতিক সূত্রের মতে, গাজা পরিস্থিতি, ইসরায়েল-হামাস সংঘাত এবং বহুপাক্ষিক শান্তি উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হতে পারে। তবে ইসরায়েলের প্রস্তাবিত জোটে ভারত কতটা সক্রিয় ভূমিকা নেবে, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতাই সফরের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে। তবু ‘ষড়ভুজ জোট’-এর প্রস্তাব পশ্চিম এশিয়ার কূটনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au