ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে গ্রেপ্তার ৪, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন চারজন। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে আদালতে…
মেলবোর্ন, ২৬ ফেব্রুয়ারি- গাজায় চলমান সামরিক অভিযানের জেরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার মুখে থাকা ইসরায়েলের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই দিনের সরকারি সফরে ইসরায়েলে গিয়ে তিনি দেশটির প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ভবিষ্যতেও সেই অবস্থান অটুট থাকবে বলে জানান।
সফরের প্রথম দিন বুধবার তিনি ইসরায়েলের পার্লামেন্ট কনেসেট–এ ভাষণ দেন। সেখানে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি এবং আগামী দিনগুলোতেও ভারত পূর্ণ আস্থা ও দৃঢ়তার সঙ্গে ইসরায়েলের পাশে থাকবে। তাঁর বক্তব্যের সময় উপস্থিত সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিবাদন জানান।
মোদি তাঁর ভাষণে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের ইসরায়েলে হামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি ওই হামলাকে ‘বর্বরোচিত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, কোনো অবস্থাতেই বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর বক্তব্যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
তবে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে বিপুল প্রাণহানি ও অবকাঠামো ধ্বংসের অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে যে বিতর্ক রয়েছে, সে প্রেক্ষাপটে মোদির এই অবস্থান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও কয়েকটি দেশ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ ও নির্বিচার হামলার অভিযোগ তুলেছে। তবুও ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছে।
মোদিকে স্বাগত জানাতে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এ উপস্থিত ছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিমানবন্দরে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অভ্যর্থনা জানানো হয়। পরে কনেসেটে দেওয়া বক্তৃতায় নেতানিয়াহু ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর ইসরায়েলের পাশে থাকার জন্য ভারতকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, দুই দেশ অভিন্ন স্বার্থে কাজ করছে এবং মোদিকে তিনি “বন্ধুর চেয়েও বেশি, একজন ভাই” হিসেবে দেখেন।
নিজের বক্তব্যে মোদি উল্লেখ করেন, গত নভেম্বর মাসে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত গাজা–সংক্রান্ত শান্তি প্রস্তাবকে ভারত সমর্থন করেছে। তাঁর ভাষ্য, ওই প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যে একটি ন্যায্য ও স্থায়ী শান্তির পথ দেখাতে পারে। তিনি বলেন, ভারত বিশ্বাস করে যে অঞ্চলটির সব মানুষের জন্য টেকসই শান্তি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
দুই দেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে মোদি বলেন, ভারত ও ইসরায়েল বিশ্বস্ত অংশীদার। প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্যসহ নানা খাতে সহযোগিতা বাড়ছে। তিনি এই সম্পর্ককে বাণিজ্য ও নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে জানান, ভবিষ্যতে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও গভীর করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে মোদির আমলে ভারত–ইসরায়েল সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে উষ্ণ হয়। ২০১৭ সালে তিনি প্রথমবারের মতো ইসরায়েল সফর করেন, যা ছিল কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ইসরায়েল সফর। পরের বছর, ২০১৮ সালে নেতানিয়াহু ভারত সফর করেন। সাম্প্রতিক এই সফরকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au