২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত তারিখবিহীন ছবিতে বিল ক্লিনটনকে দেখা যাচ্ছে। উপরের বাম পাশে ক্লিনটনের সঙ্গে এপস্টেইন; ছবির অন্য ব্যক্তিদের অংশ বিচার বিভাগ (DOJ) গোপন করেছে। | মার্কিন বিচার বিভাগ
মেলবোর্ন, ২৮ ফেব্রুয়ারি: সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কংগ্রেসের রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হয়েছে। শুনানিতে তাঁকে একটি বিতর্কিত ‘হট টাব’ ছবির বিষয়েও প্রশ্ন করা হয় বলে জানা গেছে।
মার্কিন সময় শুক্রবার, ৪০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো কোনো সাবেক প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের সামনে বাধ্যতামূলকভাবে সাক্ষ্য দিতে হয়। শুনানি অনুষ্ঠিত হয় নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের চ্যাপাকুয়া শহরে, যেখানে ক্লিনটন দম্পতির বাসভবন রয়েছে। পুরো কার্যক্রমটি ছিল বন্ধ কক্ষে।
সাক্ষ্য দিতে গিয়ে ক্লিনটন বলেন, তিনি “কিছু দেখেননি” এবং “কোনো ভুল করেননি”। তিনি দাবি করেন, এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণা ছিল না এবং বহু বছর আগেই তাঁদের সম্পর্কের অবসান ঘটে, যখন এপস্টেইনের অপরাধ প্রকাশ্যে আসেনি।
“আমি জানি আমি কী দেখেছি, আর তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ, কী দেখিনি। আমি জানি আমি কী করেছি, আর কী করিনি। আমি কিছু দেখিনি, আমি কোনো ভুল করিনি,”—বৈঠকে যাওয়ার আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন ক্লিনটন।
তিনি আরও বলেন, পারিবারিক সহিংসতার অভিজ্ঞতা থেকে বেড়ে ওঠার কারণে, যদি সামান্যতম সন্দেহও পেতেন, তবে তিনি এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমানে যেতেন না, বরং নিজেই তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাতেন।
হিলারিকে তলব নিয়ে ক্ষোভ
সাক্ষ্য শুরুর আগে ক্লিনটন হাউস ওভারসাইট কমিটির সমালোচনা করে বলেন, তাঁর স্ত্রী ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে আগের দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে, যদিও তাঁর এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছিল না।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন।ছবি : সংগৃহীত
“আপনারা হিলারিকে আসতে বাধ্য করেছেন। তাঁর জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো সম্পর্কই ছিল না,”—ক্ষোভ প্রকাশ করেন ক্লিনটন।
হাউস ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কমার বলেন, এই মুহূর্তে ক্লিনটন দম্পতির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। তবে তদন্তের স্বার্থে অনেক প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।
‘হট টাব’ ছবি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ
সাক্ষ্য চলাকালে গত বছর বিচার বিভাগ প্রকাশিত একটি ছবির বিষয়ে ক্লিনটনকে প্রশ্ন করা হয়, যেখানে তাঁকে একটি হট টাবে এক অজ্ঞাত নারীর সঙ্গে দেখা যায়। সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ক্লিনটন জানিয়েছেন তিনি ছবির ওই নারীকে চিনতেন না। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে, ওই নারীর সঙ্গে তাঁর কোনো যৌন সম্পর্ক ছিল কি না, তিনি তা অস্বীকার করেন।
আরেকটি ছবিতে তাঁকে জিসলাইন ম্যাক্সওয়েল ও এক অজ্ঞাত নারীর সঙ্গে সুইমিং পুলে দেখা যায়। সে সময় ক্লিনটনের দপ্তর দাবি করেছিল, তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব নথি ও ছবি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হোক।
ক্লিনটন বলেন, “জেফরি এপস্টেইনের কারণে যেসব নারী ও কিশোরীর জীবন ধ্বংস হয়েছে, তারা ন্যায়বিচার ও পুনর্বাসনের যোগ্য।”
উল্লেখ্য, সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি। কেবল এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথিতে কারও নাম থাকা মানেই অপরাধে জড়িত থাকা নয় বলে জানিয়েছেন কমিটির চেয়ারম্যান।

মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত ছবিতে গিলেন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে একটি সুইমিং পুলে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে দেখা যাচ্ছে।
ট্রাম্পকেও তলবের দাবি
এদিকে, শুনানির পর ডেমোক্র্যাট সদস্য রবার্ট গার্সিয়া দাবি করেছেন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও একইভাবে কমিটির সামনে হাজির হয়ে তাঁর এপস্টেইন-সংক্রান্ত সম্পর্কের ব্যাখ্যা দিতে হবে।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “আমি তাঁকে (ক্লিনটনকে) জেরা হতে দেখতে পছন্দ করি না। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে তারা এর চেয়েও বেশি করেছে।”
তবে গার্সিয়া বলেন, “এটি কোনো প্রতারণা নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এখনও নির্দোষ ঘোষণা করা হয়নি। আমাদের তাঁর কাছে গুরুতর প্রশ্ন আছে।”
এপস্টেইন-সংক্রান্ত তদন্তকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। যদিও ক্লিনটনের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো অভিযোগ নেই, তবু এই শুনানি দেশটির রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে।
আরো পড়ুন