ইরানে মেয়েদের স্কুলে ইসরায়েলের হামলা। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৮ ফেব্রুয়ারি- ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশের মিনাব শহরে একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৪০ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, হামলায় বিদ্যালয়টি সরাসরি লক্ষ্যবস্তু ছিল। একটি ক্ষেপণাস্ত্র স্কুল ভবনে আঘাত হানলে মুহূর্তেই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি হয়। প্রথম দিকে নিহতের সংখ্যা কম বলা হলেও সময়ের সঙ্গে তা বাড়তে থাকে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একের পর এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। নিহত ও আহতদের বেশিরভাগই অল্পবয়সী ছাত্রী। তবে নিহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এই হামলার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করা হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অংশগ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। হামলার লক্ষ্য কী ছিল বা কেন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলো, সে প্রশ্নেরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই এই হামলা ঘটেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এ ধরনের ঘটনা মানবিক সংকটকে আরও গভীর করতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।
এই হামলার পর ইরান ও ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং বৃহত্তর সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।