সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের ৩ ঝুঁকি , ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ০১ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। তবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, জুন পর্যন্ত দেশের জ্বালানি আমদানিতে তাৎক্ষণিক কোনো সমস্যা দেখা দিচ্ছে না। সরকার টু সরকার চুক্তি ও উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ব্যবস্থা সম্পন্ন রয়েছে। বিকল্প সরবরাহ রুটও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তিনটি বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে: আন্তর্জাতিক তেলের দাম বেড়ে যাওয়া, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ।
বিপিসি জানিয়েছে, চীন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকে পরিশোধিত জ্বালানি, এবং সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে অপরিশোধিত তেল নিয়মিত আসছে। অতীতে এসব চালান মূলত হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে আসলেও এখন বিকল্প কেন্দ্র হিসেবে ফুজাইরাহ টার্মিনাল ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন হলে দেশের এলএনজি আমদানিতেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং শিল্প খাতেও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ইতোমধ্যেই ৬১ ডলার থেকে ৬৭ ডলারে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫ থেকে ১১০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
বিপিসির পরিচালক এ কে এম আজাদুর রহমান জানিয়েছেন, চলতি বছরে দেশের তেলের ব্যবহার প্রায় ৬৮ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে। এর ৮০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে সরাসরি তেলের দামে প্রভাব পড়বে। জাহাজ চলাচলের ব্যয় বেড়ে যাবে, রপ্তানিতে সময় বাড়বে এবং কৃষি, শিল্প ও গণপরিবহনে প্রভাব পড়বে।
অর্থনীতিবিদ ড. মইনুল ইসলাম বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি হলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়বে। শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল আলম জুয়েল বলেন, জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের অস্থিরতা হলে সরাসরি ক্ষতি হবে কৃষক, শিল্প ও পরিবহন খাতের।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশকে বিকল্প সরবরাহ রুট সক্রিয় রাখা, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি জোরদার করা, কৌশলগত মজুত বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে। বর্তমানে দেশীয় উৎস থেকে দৈনিক ১৭১ কোটি ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি থেকে ৮৫-১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।