যুক্তরাষ্ট্রের ২৭টি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরান রেভোল্যুশনারি গার্ডের। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১ ফেব্রুয়ারি- মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ২৭টি সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস। গতকাল শনিবার থেকে আজ রোববার সকাল পর্যন্ত এ হামলা পরিচালিত হয়েছে বলে রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অঞ্চলজুড়ে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসরসহ ১২টিরও বেশি দেশে এসব ঘাঁটি বিস্তৃত। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার জেরে এসব ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শুধু মার্কিন ঘাঁটিই নয়, ইসরায়েলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তেল নফ শহরে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর ঘাঁটি, তেল আবিবের হাকিরিয়া এলাকায় প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তর এবং একই শহরে প্রতিরক্ষা বাহিনীর একটি বড় শিল্প কমপ্লেক্স। ইরানের দাবি, এসব স্থাপনায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানের রাজধানী মাস্কাটে তেহরান ও ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ শুরু হয়। টানা পাঁচ দফা আলোচনা শেষে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় বৈঠক শেষ হয়। ওইদিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, সংলাপের ফলাফল নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন।
সংলাপ শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই ইরানের রাজধানী তেহরানসহ সাতটি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথবাহিনী। আকস্মিক এ হামলার পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ শুরু হয়। এতে করে দ্রুতই ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।
অঞ্চলজুড়ে চলমান এ সামরিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক মহলে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ এতে বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা