আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে ঘিরে একের পর এক সামরিক দাবি ও পাল্টা দাবিতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে কেন্দ্র করে সামরিক তৎপরতার পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগও চলছে।
সবশেষে ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, ইরানে চলমান মার্কিন–ইসরায়েলি অভিযানে দেশটির শীর্ষপর্যায়ের ৪৮ জন নেতা নিহত হয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, অভিযানের সাফল্য অনেকেই বিশ্বাস করতে পারছে না এবং পরিস্থিতি দ্রুত তাদের অনুকূলে এগোচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কেবল নিজের স্বার্থে নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তার স্বার্থেও পদক্ষেপ নিচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের নয়টি নৌযান ধ্বংস করে সমুদ্রে ডুবিয়ে দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ধ্বংস হওয়া নৌযানের কয়েকটি আকারে বড় এবং সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি আরও বলেন, ইরানের নৌবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সদর দপ্তরেও ব্যাপক ক্ষতি করা হয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কাতারের দিকে এগিয়ে আসা একটি ইরানি মানববিহীন উড়োজাহাজ তাদের যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। রোববার এ ঘটনা ঘটে বলে জানানো হয়। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে এটিকে ব্রিটিশ বাহিনীর প্রথম সরাসরি অংশগ্রহণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছিলেন, প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলের বেইত শেমেশ এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ৫১ জন এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১১ জন। দেশটির পুলিশ স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে নিহতের সংখ্যা ৮ এবং আহত ২৭ জন বলা হয়েছিল। জেরুজালেম থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই এলাকায় রোববার হামলাটি হয়। ইসরায়েলের জরুরি চিকিৎসা সেবা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হামলার পরপরই উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করা হয়।
কূটনৈতিক পর্যায়েও আলোচনা চলছে। ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তাঁর ওমানি সমকক্ষ বদর বিন হামাদ আল বুসাইদিকে চলমান উত্তেজনা কমানোর আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক পারমাণবিক আলোচনা প্রক্রিয়ায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছিল ওমান। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি ওয়াশিংটনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা আঞ্চলিক উত্তেজনা ও আতঙ্ক বাড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, ইরানের নতুন নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় এবং তিনিও তাতে সম্মত হয়েছেন। এক মার্কিন সাময়িকীতে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলবেন। তবে সম্ভাব্য আলোচনার সময়সূচি বা কাঠামো নিয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
সামরিক পরিস্থিতি নিয়েও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এসেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা কাতারভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন বিমানবাহী রণতরি আব্রাহাম লিংকন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং এটি স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে। তাদের দাবি, নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র রণতরিতে পৌঁছাতে পারেনি। এর আগে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছিল, তারা ওই রণতরিতে চারটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
তবে উভয় পক্ষের এসব দাবির অনেকটাই স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে সামরিক ও কূটনৈতিক উভয় দিক থেকেই পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত এবং উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার স্পষ্ট কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
সূত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au