আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র আকার নিয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের তেল আবিবে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে ইরানের রাজধানী তেহরানে একটি হাসপাতালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার অভিযোগ উঠেছে। এর পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
রোববার মধ্যরাতে ইসরায়েলের প্রধান শহর তেল আবিবে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আকাশে আগুনের ঝলক দেখা গেছে এবং পরপর কয়েকটি বিকট শব্দে আশপাশের ভবন কেঁপে ওঠে। একই সময়ে জেরুজালেমে সতর্কতা সংকেতের সাইরেন বেজে ওঠে। একটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার সরাসরি সম্প্রচারে তেল আবিবের দৃশ্য দেখানো হচ্ছিল, তবে হামলার সময় হঠাৎ করে সেই সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
এদিকে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সামনে ইরানপন্থী বিক্ষোভকারীরা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। রোববার দুপুরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
ইরানের সংবাদ সংস্থা ইসনা জানিয়েছে, তেহরানের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত গান্ধী হাসপাতাল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার শিকার হয়েছে। সংস্থাটির খবরে বলা হয়, হাসপাতালটি সরাসরি হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। ইরানের আরও দুটি সংবাদ সংস্থা ফার্স ও মিজান একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যা হাসপাতালের ভেতরের দৃশ্য বলে দাবি করা হচ্ছে। সেখানে মেঝেজুড়ে ধ্বংসাবশেষ, ভাঙা কাচ এবং উল্টে থাকা খালি হুইলচেয়ার দেখা যায়। তবে হামলায় কতজন হতাহত হয়েছেন বা অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণ কত, সে বিষয়ে পরিষ্কার তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ঘোষণা দিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে দেশটির শেয়ারবাজার দুই দিন বন্ধ থাকবে। আমিরাতের পুঁজি বাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবুধাবি ও দুবাইয়ের শেয়ারবাজার ২ ও ৩ মার্চ বন্ধ রাখা হবে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মধ্যপ্রাচ্যের বড় শেয়ারবাজারগুলোর মধ্যে আমিরাতের এই দুটি বাজার গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত।
রোববার খোলা থাকা উপসাগরীয় অন্যান্য শেয়ারবাজারেও বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে। সৌদি আরবের প্রধান সূচক লেনদেনের শুরুতেই চার শতাংশের বেশি কমে যায়। ওমানের বাজার পড়ে যায় তিন শতাংশ এবং মিসরের প্রধান সূচক কমে যায় পাঁচ দশমিক চার চার শতাংশ। কুয়েত সাময়িকভাবে লেনদেন স্থগিত রাখে।
মার্কিন একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে নিহত তিন মার্কিন সেনা কুয়েতে অবস্থান করছিলেন। কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। শনিবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমা হামলা শুরুর পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত এসব ঘাঁটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানে তাদের দূতাবাস বন্ধ এবং রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, আবাসিক এলাকা, বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও বিভিন্ন সেবাকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, যা বেসামরিক মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। আমিরাত এসব হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান জানিয়েছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুসংবাদে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ইরানের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানান। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার ঢেউয়ে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এরদোয়ান বলেন, এই হামলা ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে এবং দেশটির জনগণের শান্তিকে আঘাত করেছে।
রোববার রাত স্থানীয় সময় প্রায় নয়টার দিকে তেহরানে আরও দুটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় বহু ভবনের জানালার কাচ কেঁপে ওঠে। একই সময়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, তাদের স্থাপনাও হামলার মুখে পড়েছে। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
সব মিলিয়ে সামরিক হামলা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত ও অর্থনৈতিক অস্থিরতায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে। অঞ্চলজুড়ে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সূত্রঃ রয়টার্স ও ওটিএন বাংলা ডেস্ক
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au