ইরান যুদ্ধের মধ্যেই লেবাননে হেজবুল্লাহ ঘাঁটিতে ইসরায়েলের হামলা। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৩ মার্চ- ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই লেবাননে হেজবুল্লাহর বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল। রাজধানী বৈরুত ও দক্ষিণ লেবাননের একাধিক এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ ঘটনায় আরও ১৪৯ জন আহত হয়েছেন।
লেবাননের কর্মকর্তারা জানান, আবাসিক এলাকা ও সন্দেহভাজন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে। হতাহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
এদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৈরুতে পরিচালিত একটি হামলায় হেজবুল্লাহর গোয়েন্দা প্রধান হুসেইন মাকলেদ নিহত হয়েছেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কার্টজ সোমবার বলেন, হেজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাশেম এখন স্পষ্টভাবে তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করে সেনাবাহিনীকে হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে লেবানন সরকার সোমবার হেজবুল্লাহর সশস্ত্র কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। তবে সংগঠনটির রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি বহাল রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দেশের ভেতরে বাড়তে থাকা চাপ ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে টানা তৃতীয় দিনের মতো পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলো প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য এলাকাতেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের এরবিল বিমানবন্দরের আকাশে তিনটি সশস্ত্র ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। বিমানবন্দরটিতে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছেন।
মূলত ইসরায়েল ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা রয়েছে, সেগুলো লক্ষ্য করেই ইরান হামলা চালাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে সোমবার কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে অবস্থানরত একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে বিমানের ক্রুরা অক্ষত রয়েছেন এবং তাদের উদ্ধার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
ক্রমবর্ধমান এই সংঘাতে ইসরায়েল, ইরান ও তাদের মিত্রদের মধ্যে সরাসরি ও পরোক্ষ হামলা বাড়তে থাকায় পুরো অঞ্চলজুড়ে অস্থিরতা গভীরতর হচ্ছে। কূটনৈতিক সমাধানের কোনো লক্ষণ আপাতত দৃশ্যমান না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
সূত্রঃ বিবিসি